• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বন্ধুর বিষ খাওয়ার ছবি মোবাইলবন্দি করল বন্ধুই

Friends
বিষ খাওয়ার ছবি। ইনসেটে, তোরাবুলের আগের ছবি।—নিজস্ব চিত্র  

বিষ খাচ্ছে এক বন্ধু। মোবাইলে সেই ছবি তুলে রাখছে তারই এক বন্ধু। ওই ছবি ছড়িয়ে পড়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে বাদুড়িয়ায়।

বাদুড়িয়ার শোমপুর গ্রামের বাসিন্দা কবির হোসেন মণ্ডলের ছেলে তোরাবুলের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর তাঁরই বন্ধু হাবিবুলের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। এ পুরনো কোনও আক্রোশ নাকি ত্রিকোণ প্রেমের পরিণতি নাকি আত্মহত্যা— তা জানতে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ তদন্তে নেমেছে। বাদুড়িয়া থানার ওসি বাপ্পা মিত্র বলেন, ‘‘প্রেমে বিফল হয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে একটি ভিডিও উদ্ধার হয়েছে। হাবিবুলের বিরুদ্ধে তোরাবুলকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্ত পালিয়েছে। তার খোঁজে তল্লাসি শুরু হয়েছে।’’

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়া বছর পনেরোর তোরাবুল সম্প্রতি পড়াশোনা ছেড়ে রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ শুরু করেছিল। ১ জুলাই সকালে স্থানীয় মাসকাটা খালের পাশের পাটখেত থেকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। বারাসত হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ২ জুলাই সেখানেই তার মৃত্যু হয়। ঠিক কী কারণে সে কীটনাশক খেল, তা পরিষ্কার নয় তার পরিবারের কাছে। তবে এই ঘটনার পর মোবাইলে তোলা একটি ছবি প্রকাশ্যে এলে পুরো বিষয়টি বদলে যায়। পুলিশ জানায়, মৃতের পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন সকালে কাজে গিয়েছিল তোরাবুল। কাজ করতে ভাল লাগছিল না বলে সকাল ৮টা নাগাদ বাড়ি ফেরে সে। অভিযোগ, ওই সময়ে হাবিবুল তাকে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে মাসকাটা খালের কাছে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে পাটখেতের মধ্যে তোরাবুল যখন কীটনাশক খাচ্ছিল সে সময়ের ছবি মোবাইলে বন্দি করে হাবিবুল। বন্ধুর মৃত্যু নিশ্চিত করতে সে বেশি করে কীটনাশক খাওয়ার জন্য প্ররোচনাও দেয় বলে তোরাবুলের পরিবারের দাবি। কবির হোসেন মণ্ডলের দাবি, তোরাবুলের বিষ খাওয়ার ঘটনার ছবি তুললেও সে কথা চেপে গিয়েছিল হাবিবুল। পরে সন্দেহ হওয়ায় হাবিবুলের মোবাইল থেকে সেই ছবি উদ্ধার হয়।

এর পরেই তোরাবুলকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার জন্য বন্ধু হাবিবুলের বিরুদ্ধে বাদুড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন মৃতের কাকা সাবুল হোসেন মণ্ডল। সাবুল হোসেন বলেন, ‘‘গ্রামেরই একটি মেয়েকে ভালবাসত ভাইপো। একই মেয়েকে পছন্দ করত হাবিবুলও। তারই জেরে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তোরাবুল। সম্প্রতি একটি মোবাইল চুরির বিষয়ে নাম জড়িয়ে পড়েছিল হাবিবুলের। মোবাইল চুরির কথা প্রতিবেশীদের জানিয়ে দিয়েছিল তোরাবুলই। সেই আক্রোশেই ভাইপোর বিষ খাওয়ার ছবি মোবাইলে ছবি তোলে হাবিবুল। পরে তা আমাদের হাতে আসে। এর পরেই হাবিবুলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানানো হয়।’’ হাবিবুলের পরিবারের অবশ্য দাবি, তাদের ছেলেকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে।

ত্রিকোণ প্রেম এবং মোবাইল চুরি ধরিয়ে দেওয়ার আক্রোশেই কি বন্ধুকে মৃত্যুর হাত থেকে না বাঁচিয়ে তাকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়ে বিষ খাওয়ার ছবি তুলেছিল হাবিবুল— আপাতত এ প্রশ্নের উত্তর পেতেই মরিয়া পুলিশ।  

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন