কারও বয়স উনিশ।  কারও বয়স বাইশের বেশি। কিন্তু ওঁরা কেউ এখনও ভোট দেননি। ভোটার তালিকায় ওঁদের কারও নামও নেই। প্রতিবন্ধী হওয়ায় বাড়ির লোকজনও ওঁদের ভোট তালিকায় নাম তোলার তোড়জোড় করেননি। কিন্তু এ বার তাঁদের নাম তুলতে আগ্রহী প্রশাসন। 

কুলপি ব্লক থেকে সম্প্রতি এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিবন্ধীদের শনাক্ত করা হয়।  আঠারো বছরের ঊর্ধ্বে সকলের ভোটার তালিকায় নাম তোলা হবে বলে প্রশাসন থেকে জানানো হয়। তৈরি করে দেওয়া হবে তাঁদের ভোটার কার্ডও। 

কুলপির বিডিও সঞ্জীব সেন বলেন, ‘‘কিছু পরিবার বিষয়টি জানতেনই না। তাই নাম তোলেননি। প্রতিবন্ধীদেরও ভোট দেওয়ার অধিকার আছে। তাই আমরাই ব্যবস্থা করলাম।’’ প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ব্লকে ১৪টি পঞ্চায়েত আছে। প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ৮৩৫ জন। এঁদের মধ্যে প্রায় ২০ জন একশো শতাংশ প্রতিবন্ধী। ওই প্রতিবন্ধীদের পরিবারের লোকজনের উদাসীনতা বা অনীহার কারণে এত দিন ভোটার তালিকায় নাম তোলা হয়নি। ভোটার কার্ডের জন্য সাধারণত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে প্রতিটি বুথে বুথে ব্লক ও পঞ্চায়েত প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিবির করা হয়। নির্দিষ্ট শিবিরে হাজির না হলে পরিচয়পত্র করা সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। সে ক্ষেত্রে পরে ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে হয়।

ব্লক প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, বেশির ভাগ প্রতিবন্ধীদের বাড়ির লোকজন ভাবেন, প্রতিবন্ধীদের ভোট দিয়ে কী হবে। এই চিন্তাধারা থেকেই ভোটার কার্ড তৈরি বা ভোটের তালিকায় নাম তুলতে চান না তাঁরা। কিন্তু সরকার উদ্যোগী হওয়ায় খুশি প্রতিবন্ধীদের অভিভাবকেরা। 

গাজিপুর গ্রামের রুহুনেচা খাতুন, রামনগরের সেলিকুজ্জামান লস্কর বা জামালপুরের আমির হোসের সর্দারের অভিভাবকেরা বলেন, ‘‘সারাক্ষণই বিছানায় থাকে। এ বার ওরাও ভোট দিতে যাবে। খুব ভাল লাগছে। সরকারি পরিচয়পত্র তৈরি হল। ব্লক প্রশাসনের কর্মীরা বাড়িতে এসে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে নিয়ে গিয়েছেন।’’

কী কী করা হচ্ছে?

প্রতিবন্ধীরা স্থায়ী ঠিকানা ও বয়সের শংসাপত্র দেখে একটা ফর্মে সই বা টিপ সই করিয়ে আনছেন সরকারি কর্মীরা। পরে ওঁদের এনে ভোটার পরিচয়পত্র করানো হবে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।