অভিনেত্রী নুসরত জাহানের বিরুদ্ধে দলের হেভিওয়েট নেতা, রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুকে বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী করল বিজেপি। কিন্তু তাতেও দলের অন্দরের কোন্দল ধামাচাপা দেওয়া গেল না। বসিরহাটের নেতা-কর্মীদের একাংশ প্রার্থীর নামের সঙ্গে ‘বহিরাগত’ তকমা এঁটে অসন্তোষ গোপন রাখছেন না। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে একটি পোস্ট শুক্রবার দিনভর দলের জেলা নেতাদের অস্বস্তিতে রেখেছে। ‘বসিরহাট লোকসভা বিজেপি কর্মিবৃন্দে’র তরফে ‘বহিরাগত সায়ন্তন বসুকে চাই না’— এই মর্মে ইতিমধ্যেই পোস্টার পড়েছে। সেখালে স্থানীয় নেতাকে প্রার্থী করতে হবে বলে দাবি তোলা হয়েছে। 

বিষয়টিতে অবশ্য প্রকাশ্যে গুরুত্ব দিতে নারাজ দলের নেতারা। জেলা সম্পাদক শান্তনু চক্রবর্তী বলেন, ‘‘আমাদের কাছে আগে দল এবং দেশ। দলের ঠিক করা প্রার্থীকে নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনও বিভাজন নেই। সেটা বুঝতে পেরেই পরিকল্পনামাফিক বিরোধীরা সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে আমাদের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেছে।’’ প্রার্থী সম্পর্কে বলতে গিয়ে বিজেপির জেলা সভাপতি গণেশ ঘোষ বলেন, ‘‘মোদীজি ভেবেচিন্তেই রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তনকে প্রার্থী করেছেন। বিভেদের যে চক্রান্ত শুরু করেছে বিরোধীরা, তাতে সফল হবে না।’’ নেতারা মুখে এমন দাবি করলেও সায়ন্তনকে প্রার্থী হিসেবে পেয়ে কর্মীদের বড় অংশ যে মুষড়ে পড়েছে, তা মেনে নিচ্ছেন দলের স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশ। 

দলের যুব মোর্চার ডাকে রবিবার বাদুড়িয়া এবং বসিরহাট উত্তর বিধানসভা এলাকায় দু’টি কর্মিসভা করার কথা সল্টলেকের বাসিন্দা সায়ন্তনের। তিনি বলেন, ‘‘কে কোন পদে আছেন, তা বড় কথা নয়। মূল কথা, মোদীজিকে দেশের প্রধানমন্ত্রী করতে এক সঙ্গে সকলে মিলে লড়াই করব।’’ তৃণমূল প্রার্থী সম্পর্কে পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ সায়ন্তনের বক্তব্য, ‘‘কে কোন দলের প্রার্থী হয়েছেন, তা বড় কথা নয়। যিনি যে দলের প্রার্থী হয়েছেন, তিনি সেই দলের মতাদর্শের কথা বলবেন।’’ 

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯