আইসির বদলির প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকে দফায় দফায় পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন বনগাঁ শহরের মানুষ। মিছিলও করেন তাঁরা। তৈরি হয় যানজট। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বনগাঁ থানার আইসি সতীনাথ চট্টরাজের বদলির সরকারি নির্দেশ প্রত্যাহার করতে হবে।

বনগাঁ পুলিশ জেলা সূত্রের খবর, শুক্রবার রাতে সতীনাথের বদলির সরকারি নির্দেশ এসেছে। তিনি ক্যানিং থানায় যাচ্ছেন। ক্যানিং থানার আইসি মানস চৌধুরী আসছেন বনগাঁয়।

আইসি-র বদলির নির্দেশ জানাজানি হতেই শুরু হয় বিক্ষোভ। শনিবার হাসপাতাল কালীবাড়ি মোড়, বাটার মোড়, রামনগর রোডের মোড়, মতিগঞ্জ, হাইস্কুল মোড়, ত্রিকোণ পার্ক এলাকায় দফায় দফায় অবরোধ চলে। কালীবাড়ি মোড় থেকে একটি মিছিল আসে পুলিশ সুপারের অফিস পর্যন্ত। মিছিল করেন এলাকার কিছু ব্যবসায়ীও। তাঁদের হাতে প্ল্যাকার্ড ও পোস্টারে লেখা ছিল, ‘কোনও অবস্থাতেই আমরা আইসি-র বদলি মানছি না।’ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন সতীনাথ। সকলের উদ্দেশ্যে হাতজোড় করে বলেন, ‘‘সরকারি নিয়মে আমার বদলি হয়েছে। এলাকায় যে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় ছিল, তার কৃতিত্ব আপনাদেরও। আপনারা সাহায্য করেছেন বলেই এটা সম্ভব হয়েছিল। সমস্ত পুলিশ বিভাগ এক সঙ্গে ভাল কাজ করেছে বলেই অপরাধদমন সম্ভব হয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘নতুন যিনি আইসি হয়ে আসছেন, আপনারা তাঁকেও সহযোগিতা করুন। উনিও ভাল কাজ করবেন। আমাকে আর
আটকাবেন না।’’

কেন  আইসি-র বদলির নির্দেশ নিয়ে সরব মানুষ? বিক্ষোভকারী অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সতীনাথ প্রায় তিন বছর বনগাঁ থানায় রয়েছেন। বাসিন্দারা জানালেন, এই সময়ে বনগাঁর আইন-শৃঙ্খলার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। বড় ধরনের কোনও পরিকল্পিত অপরাধ ঘটেনি। এক ওষুধের দোকানি বললেন, ‘‘সব থেকে বড় কথা, ওঁর ব্যবহারও খুব ভাল। যে কোনও সমস্যায় নির্ভয়ে কথা বলা যেত। ধৈর্য ধরে শুনতেন।’’ সতীনাথের সময়ে বনগাঁ শহরে বেশ কিছু চুরি, কেপমারি, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে মন্দিরে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দুষ্কৃতীদের ধরা হয়েছে বলেও জানালেন অনেকে।