রাস্তায় পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মৃত্যু হল পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রের। তাকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর জখম হয়েছেন বিদ্যুৎ দফতরের এক কর্মী। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ছাত্রের নাম ইমরান মোল্লা (১১)। দিলীপ আইচ নামে জখম কর্মীর হাড়োয়া হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। শুক্রবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে দেগঙ্গা থানার পশ্চিম হাদিপুরে।

হাদিপুর এলাকার একটি খেলার মাঠের উপর দিয়ে গিয়েছে ৪৪০ ভোল্টের হাইটেনশন তার। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন দুপুরে সেই তার খুলে চলছিল বিদ্যুতের তার লাগানোর কাজ। মাঠেও ছড়িয়ে ছিল বিদ্যুতের তার। সেই কাজ দেখছিল হাদিপুর চুপড়িঝাড়া জুনিয়র হাইস্কুলের ছাত্র ইমরান। সেখানেই একটি তারে কোনও ভাবে হাত লেগে যায় তার। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শরীরের বেশ কিছু অংশ পুড়ে যায় ওই বালকের। হাড়োয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ইমরানকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন দিলীপবাবুও। 

এই ঘটনার পরেই বিদ্যুৎ দফতর এবং পাশ্ববর্তী একটি বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগকে দায়ী করে ক্ষোভ দেখান এলাকার মানুষ। তাঁদের অভিযোগ, হাইটেনশন তারের কাজ করার আগে বিদ্যুৎ দফতর মাইকে প্রচার করে মানুষকে আগে সতর্ক করেনি।

তবে বিদ্যুৎ দফতর কর্মীরা জানান, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করেই তাঁরা হাইটেনশন তার লাগানোর কাজ করছিলেন। মাঠের পাশের একটি বাড়ি থেকে আসা বিদ্যুতের তার থেকেই এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে দফতর। যদিও ওই বাড়ির কর্তা সামসুর দোহা বলেন, ‘‘বিদ্যুৎ দফতর নিজেদের গাফিলতি ঢাকতে আমার উপরে দোষ চাপাচ্ছে।’’

রুহুল আমিন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘এই মৃত্যুর জন্য কে দায়ী, তা খুঁজে বার করে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে।’’ ওই বালকের মৃত্যু নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।