এক মহিলার ক্ষত বিক্ষত দেহ উদ্ধার হল। অভিযোগ, ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে তাঁকে। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটে বাসন্তীর জ্যোতিষপুর পঞ্চায়েতের রাধারানিপুর গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম সুলতা পয়রা (৫২)। এই ঘটনায় সুদর্শন মণ্ডল নামে ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। সুদর্শনের বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয় দেহ।

রাধারানিপুরের বাসিন্দা সুদর্শনের সঙ্গে মৃত সুলতার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল বলে অভিযোগ উঠছে। সুলতার বাড়ি মৈপীঠ কোস্টালের বিনোদপুরে। তাঁর স্বামী কর্মসূত্রে কেরালায় থাকেন। গত এক বছর ধরে সুদর্শনের বাড়িতে তাঁর যাতায়াত ছিল বলে অভিযোগ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুলতার সঙ্গে সম্পর্কের জেরে সুদর্শন ও তার স্ত্রী মানসীর মধ্যে পারিবারিক অশান্তি শুরু হয়। সে কারণে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকতে শুরু করে মানসী। ঘটনার পর থেকে মানসী ও তার ছেলে পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ। খুনের সঙ্গে তারা জড়িত বলে অনুমান পুলিশের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সুলতাকে সুদর্শনের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবেই জানতেন তাঁরা। রবিবার রাত ৮টা নাগাদ সেই দ্বিতীয় স্ত্রী খুন হয়েছেন বলে খবর আসে। এলাকার লোকজন ছুটে গিয়ে দেখেন ঘরের মধ্যে গলাকাটা অবস্থায় পড়ে আছেন মহিলা। শরীরের একাধিক জায়গায় ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরে বাসন্তী থানার পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। রাতেই সুদর্শনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। মানসী ও তার ছেলের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে সুলতার মেয়ে পায়েল চৌধুরী সোমবার সকালে বাসন্তী থানায় আসেন। তাঁর অবশ্য দাবি, ‘‘মায়ের কোনও বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল না। মায়ের টাকা পয়সা লুটের জন্যই মাকে পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে। ঘটনার সঠিক তদন্ত হোক।’’

 বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার রসিদ মুনির খান বলেন, “সুদর্শনের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক মেনে নেয়নি তার স্ত্রী। আমাদের প্রাথমিক অনুমান সুদর্শনের স্ত্রী মানসী ও তার ছেলে এই ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। ঘটনার তদন্ত চলছে।’’