বাগদেবীর আরাধনায় মেতে উঠেছে শিল্পাঞ্চল। দুর্গাপুরের নানা মণ্ডপে লেগেছে থিমের ছোঁয়াও। 

ডিএসপি টাউনশিপের এ-জোনের হর্ষবর্ধন রোডে একটি গানের স্কুলে শোভা পাচ্ছে রঙিন কাগজে তৈরি প্রায় ২৫ ফুট উচ্চতার সরস্বতী মূর্তি। বরাবর নিজের হাতে সরস্বতী গড়েই পুজো করেন গানের স্কুলের শিক্ষক অমিত সরকার। তিনি হস্তশিল্পেও দক্ষ। গত বছর সরস্বতী গড়েছিলেন রাবার দিয়ে। কাগজ ও কাপড় দিয়ে প্রথমে কাঠামো গড়েন। এর পরে ২০ কেজি রাবার দিয়ে এক মাস ধরে প্রতিমা তৈরি করেন। রঙিন রাবার কেটে আঠা দিয়ে লাগানো হয় প্রতিমায়। উপরে রঙিন কাগজ দিয়ে কারুকাজ। তারও আগে চাল, ডাল, তেজপাতা, ভাঙা কাচ, বাদামের খোসার মতো নানা জিনিস দিয়ে সরস্বতী গড়ে সাড়া ফেলেছিলেন বিশ্বভারতী থেকে সঙ্গীতে স্নাতকোত্তর অমিতবাবু। এ বার মূর্তি তৈরি করেছেন কাগজ দিয়ে। 

অমিতবাবু জানান, সাত রকম রঙিন আর্ট পেপার, হ্যান্ডমেড পেপার, কাগজের প্লেট, গোল্ডেন পেপার, সিলভার পেপার ইত্যাদি দিয়ে মূর্তি গড়া হয়েছে। ১৫ দিন ধরে একটু একটু করে রূপ পেয়েছে প্রতিমা। খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা। তিনি জানান, আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় একটু সমস্যায় পড়েছিলেন। তবে শেষমেশ ভাল ভাবেই কাজ শেষ হয়েছে।  

অর্জুনপুরের ছাতিমতলার মণ্ডপে পরিবেশ বাঁচানোর বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। ফুল ও প্রজাপতি দিয়ে সেজে উঠেছে মণ্ডপ। থার্মোকলের বাটি, গ্লাস, কাগজ দিয়ে মণ্ডপ গড়া হয়েছে। উদ্যোক্তাদের তরফে মণ্ডপশিল্পী রাজেশ বাউড়ি বলেন, ‘‘পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। তা না হলে এক দিন সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে। সে কথাই মণ্ডপে বলতে চেয়েছি।’’ তেঁতুলতলা কলোনির কিশোর সঙ্ঘের পুজোয় ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’-এর বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়াও শিশুশ্রমিক রোধ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি-সহ নানা বার্তা দেওয়া হয়েছে। এলাকায় একটি স্থায়ী পুকুর আছে। সেই পুকুর ঘিরে গড়ে উঠেছে মণ্ডপ।

ডিএসপি টাউনশিপের বি-জোনের শরৎচন্দ্র অ্যাভিনিউয়ের বিদ্যাসাগর ক্লাব তুলে ধরেছে বৈদিক যুগ থেকে সরস্বতী আরাধনার কথা। উদ্যোক্তারা জানান, বিষ্ণুর নানা অবতারের রূপ ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি তুলে ধরা হয়েছে বাগদেবীর বৈদিক রূপ। সি-জোনের গৌতম বুদ্ধ মার্গে সরস্বতী পুজোর আয়োজন করেছেন মূলত পাড়ার মহিলারা। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য মাইক বাজানো নিষিদ্ধ। তবে উৎসবের মেজাজে তাতে ভাটা পড়েনি। সন্ধ্যায় খালি গলায় গানের আসর ও নানা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান উদ্যোক্তারা।