কেন্দ্রীয় সরকারের কেমিক্যালস ও ফার্টিলাইজ়ার মন্ত্রকের উদ্যোগে শুক্রবার বার্নপুরের ভারতী ভবনে ‘জন-ঔষধি পরিযোজনা’ বিষয়ে কর্মশালা আয়োজিত হল। কর্মশালার উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। উপস্থিত ছিলেন দফতরের আধিকারিকেরা। তবে সেই সঙ্গে এই পরিযোজনায় পশ্চিমবঙ্গে সে ভাবে কেন্দ্র খোলা যায়নি জানিয়ে বাবুল কারও নাম না করে তোপ দাগেন।

কেন্দ্রীয় সরকার ‘প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন-ঔষধি পরিযোজনা কেন্দ্রের’ (পিএমবিজেপি) মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে ওষুধ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। এই প্রসঙ্গ টেনে বাবুল এ দিন ‘পরিকল্পনাটি’র প্রয়োজনীয়তা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কী ভূমিকা, সে বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি জানান, যে কোনও ব্যক্তি, ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এই পরিযোজনার কেন্দ্র খুলতে পারেন। বাবুলের দাবি, ‘‘আসানসোল লোকসভার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটিতে তিনটি করে এমন কেন্দ্র খোলা হবে। সারা দেশে এ পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি কেন্দ্র খোলা হলেও পশ্চিমবঙ্গে সেই সংখ্যাটি মোটে ১৫২টি।’’

এর পরেই তাঁর সংযোজন: ‘‘সাধারণ মানুষের উপকারে লাগবে কেন্দ্রীয় সরকারের এমন পরিকল্পনা পশ্চিমবঙ্গে লাগু করার ক্ষেত্রে বাধা আসছে। আমার বিশ্বাস, এই পরিকল্পনাও বাধাপ্রাপ্ত হবে। তবে, আমাদের দলের লোকেরা আগ্রহীদের সাহায্য করবে।’’ বাবুলের এই মন্তব্য আসলে রাজ্য সরকারকে উদ্দেশ্য করেই বলে মনে করছেন আসানসোলের রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে জড়িতদের একাংশ। এ বিষয়ে তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান ভি শিবদাসন বলেন, ‘‘সাংসদ এলাকায় এসে শুধু বিভ্রান্তিই ছড়ান। আমাদের রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের কাছে ন্যায্য মূল্যে ওষুধ পৌঁছে দিয়েছে। ফলে, তাঁর কথা ভিত্তিহীন।’’

এ দিনের কর্মশালায় যোগ দেন ‘জন-ঔষধি পরিযোজনা’ দফতরের সিইও রাহুল সিংহও। তিনি সব রকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, এই ঔষধি-কেন্দ্র খোলার জন্য ‘ড্রাগ লাইসেন্স’ নিতে হবে। ইতিমধ্যে যাঁদের ড্রাগ লাইসেন্স আছে তাঁদেরও এই দোকান খোলার জন্য আলাদা করে ওই লাইসেন্স নিতে হবে। দফতরের দাবি, এ দিন প্রায় তিনশো জন কেন্দ্র খোলার জন্য আর্জি জানিয়েছেন।