গত কয়েক বছরে পরপর ঝাঁপ বন্ধ হয়েছে আসানসোলের বেশ কিছু কারখানার। বন্ধের মুখে ইসিএলের ১৬টি কয়লা খনি। অথচ, এই আসানসোল থেকেই বিজেপি-র সাংসদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। গোটা বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হতে দেখা গিয়েছে তৃণমূল ও সিপিএম-কে। এই প্রচারের মোকাবিলায় শ্রমিক এলাকায় গিয়ে কেন কারখানা বন্ধ হল, তা ব্যাখ্যা করা হবে বলে জানালেন বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

মঙ্গলবার আসানসোলে বিজেপি-র বর্ধিত রাজ্য নির্বাচন কমিটির দু’দিনের বিশেষ বৈঠক শেষ হয়েছে। বৈঠকে আগামী লোকসভা ভোটের রণনীতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে খবর। আলোচনা হয়েছে, প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করতে হবে কী ভাবে, তা নিয়েও। সেখানেই দিলীপবাবু বলেন, ‘‘কারখানাগুলি কী কারণে অলাভজনক হয়েছে, তা নিয়ে শ্রমিক এলাকায় গিয়ে মানুষের কাছে ব্যাখ্যা করবেন আমাদের কর্মীরা।’’ নাম না করে কারখানা রুগ্‌ন হওয়ার জন্য ইউপিএ জমানাকেই মূলত দায়ী করেন দিলীপবাবু।

কিন্তু দিলীপবাবুর এই মন্তব্যের পরে এলাকার রাজনৈতিক নেতৃত্বের ধারণা, বিষয়টি নিয়ে লোকসভা ভোটের আগে প্রচার চালাবে সিপিএম, তৃণমূল ও কংগ্রেস। এই তিন দলের নেতাদের একাংশের অভিযোগ, কেন্দ্রে বিজেপি-র সরকার। রাজ্যের দু’টি সাংসদের একটি আসানসোল থেকেই। যিনি আবার ভারী শিল্পমন্ত্রকের কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীও বটে। তাই শ্রমিকেরা আশা করেছিলেন, কারখানা বাঁচাতে সদর্থক পদক্ষেপ করবেন বিজেপি নেতৃত্ব ও এলাকার সাংসদ।

হিন্দুস্থান কেব্‌লস বন্ধ হবে না বলেই আশ্বাস দিয়েছিলেন সাংসদ বাবুল। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথাও হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। এর পরেই হিন্দুস্থান কেব্‌লসের গেটে আবির খেলতেও দেখা যায় বিজেপি নেতৃত্বের একাংশকে। কিন্তু শেষমেশ বন্ধই হয় কারখানা।

বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের জেলা সভাপতি ভি শিবদাসনের বক্তব্য, ‘‘সাংসদ আশা দিয়েছিলেন। হোলিও খেলেছিলেন। সাংসদের প্রতি মানুষেরই আশাভঙ্গ হয়েছে।’’ একই অভিযোগ সিপিএম ও কংগ্রেসেরও। আগামী লোকসভা ভোটে প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে এই বিষয়টি ব্যবহার করা হবে বলেও জানিয়েছেন সিটুর জেলা সম্পাদক বংশগোপাল চৌধুরী-সহ অন্য নেতারা।  যদিও প্রতিপক্ষের এই প্রচারকে আমল দিতে রাজি নন বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপি-র জেলা সভাপতি লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন, ‘‘শ্রমিক স্বার্থের পরিপন্থী কোনও কাজ কেন্দ্রীয় সরকার করে না। রাজ্য সভাপতির নির্দেশ মেনে আমরা মানুষকে সে কথাই বলব।’’