দলের পিকনিকে যোগ দেওয়ার অপরাধে এক বিজেপি কর্মী, তাঁর স্ত্রী ও ছেলের উপরে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, তাঁদের তৃণমূলের পার্টি অফিসে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছে। শ্লীলতাহানিরও অভিযোগ করেছেন ওই মহিলা। তৃণমূলের স্থানীয় নেতা অমর কুণ্ডুর নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও অভিযোগ মানেনি তৃণমূল। তাঁদের দাবি, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে তাঁদের। বিজেপির নামে পাল্টা হামলারও অভিযোগ করেছেন নেতারা। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভুড়ি অঞ্চলে জাঁহাপুরে ঘটনাটি ঘটে। ওই কর্মী জয়দেব বারোরি, তাঁর ছেলে টিটপ ও স্ত্রী আহ্লাদি দেবীকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। তাঁরা সবাই সত্যনন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। আহ্লাদিদেবীর অভিযোগ, দিন চারেক আগে বিজেপির একটি সভায় যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁর স্বামীকে হুমকি দেয় তৃণমূলের লোকেরা। পরে ওই পিকনিকে যাওয়ায় বোমা, পিস্তল নিয়ে বাড়িতে হামলা করা হয়। জাঁহাপুর বাজারের তৃণমূল কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে তাঁদের বেধড়ক মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। সেখানেই তাঁর শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও তাঁর দাবি। রাতে কোনও রকমে পালিয়ে আসেন তাঁরা। 

বিজেপির গলসি ২ ব্লক সভাপতি কালিকারঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘‘দিন চারেক আগে গ্রামেই দলের তরফে একটি পিকনিক করা হয়েছিল। সেখানে খেতে গিয়েছিলেন জয়দেবরা। তাই তাদের শাস্তি দেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যেয় তৃণমূলের অমর কুন্ডুর নেতৃত্বে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পার্টি অফিসে আটকে রেখে তাদের মারধরও করা হয়।’’

তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি সুবোধ ঘোষের পাল্টা দাবি, ওই দিন তাঁদের দলীয় কর্মী প্রদীপ বিশ্বাসের উপর অচমকা চড়াও হন বিজেপির কর্মীরা। সেই নিয়ে একটু গণ্ডগোল হয়েছিল। কিন্তু কাউকেই পার্টি অফিসে ঢুকিয়ে মারধর করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের ছেলেদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর জন্যে জয়দেবরা বিজেপির নির্দেশে নাটক শুরু করেছে। সে কারণেই অকারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, ওদের কোথাও আঘাত লাগেনি।’’ পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।