প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুর্গাপুরের নেহরু স্টেডিয়ামে সভা করে গিয়েছেন ২ ফেব্রুয়ারি। তার পরে বৃহস্পতিবার থেকে মাঠ সাফাইয়ের কাজ শুরু করলেন বিজেপি কর্মীরা। দেরিতে হলেও এই ‘বোধোদয়’-কে স্বাগত জানিয়েছেন শহরের ক্রীড়াপ্রেমীরা।

রাজীব গাঁধী ময়দানে প্রধানমন্ত্রীর সভার জন্য মাঠ না পাওয়ায় শেষমেশ নেহরু স্টেডিয়ামকেই বেছে নেয় বিজেপি। ডিএসপি-র ওই স্টেডিয়াম রাজনৈতিক দলের সভার জন্য ব্যবহারের অনুমতি কর্তৃপক্ষ দিতে পারেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে শ্রমিক সংগঠন সিটু। যদিও নির্ধারিত দিনেই সভা হয়। সভায় আসা হাজার হাজার মানুষকে জল দেওয়া হয়েছিল পলিথিনের প্যাকেটে। জল খাওয়ার পরে সেই প্যাকেট মাঠেই ফেলে দেন তাঁরা। এ ছাড়াও মাঠ জুড়ে নানা ধরনের প্লাস্টিক প্যাকেট চোখে পড়েছে বলে জানান শহরের ক্রীড়াপ্রেমীরা।

মাঠের এই হাল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। তাঁদের বক্তব্য, এমনিতেই শালের খুঁটি পোঁতার জন্য মাঠ জুড়ে গর্ত করা হয়েছিল। সেগুলি ঠিক করে ভরাট না করায় মাঠ উঁচুনিচু হয়ে গিয়েছে। তার উপরে মাঠ থেকে প্লাস্টিকের প্যাকেট না সরালে মাঠের সবুজ ফিরবে না। খেলাধুলোর জন্য মাঠ ব্যবহারে সমস্যা দেখে দেবে। এরপর কেটে যায় চার দিন। মাঠের প্লাস্টিক প্যাকেট সরানোর কোনও উদ্যোগ নজরে আসেনি। বাতাসে প্যাকেট মাঠের এ দিক-ও দিক উড়তে দেখা গিয়েছে। যদিও ডিএসপি কর্তৃপক্ষের দাবি, মাঠের বর্জ্য সরাতে পদক্ষেপ করা হয় আগেই। মোটামুটি ভাবে মাঠ সাফ করা হয়।

শেষমেশ বিজেপির কর্মীরা বৃহস্পতিবার সকালে মাঠে নামেন। ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’-এর ব্যানার লাগিয়ে মাঠ সাফাইয়ের কাজ শুরু করেন তাঁরা। প্লাস্টিক ও অন্য বর্জ্য পরিষ্কারের পাশাপাশি, ঝাঁট দিয়ে মাঠ সাফ করেন তাঁরা। এ ছাড়া কোদাল, বেলচা দিয়ে মাঠের গর্ত সমান করে ভরাট করে দেন। এর ফলে মাঠের অবস্থা এক দিনেই অনেকখানি পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে মনে করছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। মহকুমা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি তাপস সরকার বলেন, ‘‘নেহরু স্টেডিয়ামের মাঠ সাফ করে সমান করার উদ্যোগ নেওয়ায় শহরের ক্রীড়াপ্রেমী হিসেবে আমি খুশি।’’

বিজেপির জেলা সভাপতি লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন, ‘‘আমাদের দলের কর্মীরা বরাবর ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’ প্রকল্পে যোগ দিয়ে সাফাই অভিযান করে থাকেন। এ দিন নেহরু স্টেডিয়ামে গিয়েছিলেন তাঁরা।’’ এ দিন ডিএসপি-র সিটু প্রভাবিত হিন্দুস্থান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক সৌরভ দত্ত বলেন, ‘‘সদিচ্ছা থাকলে সভার পরের দিনই এই কাজ করতেন ওঁরা। সোশ্যাল মিডিয়া-সহ নানা জায়গায় লাগাতার সমালোচনার পরে তাঁরা এটা করতে বাধ্য হয়েছেন।’’