গুটখা আছে নাকি?

চেক জামা, ডেনিম প্যান্ট ও মাথায় টুপি পড়া ছোটখাটো লোকটির দিকে একঝলক তাকিয়ে দোকানদার নিচু স্বরে বললেন, “হ্যাঁ, পাওয়া যাবে। ক’প্যাকেট নেবেন?” ‘খরিদ্দার’ বলে উঠলেন, “আরে, যা আছে বের করুন তো। সব নিয়ে নেব।” দোকানদার তাক থেকে গুটখার প্যাকেট ‘খরিদ্দারের’ হাতে দিতেই তা বাজেয়াপ্ত করে নিলেন পুরসভার কর্মীরা।

ওই ‘খরিদ্দার’ আর কেউ নন, বর্ধমানের পুরপ্রধান স্বরূপ দত্ত। সোমবার বিকেলে ৪০ মাইক্রনের নীচে প্লাস্টিকের ব্যাগ ও গুটখা বিক্রি বন্ধ করার জন্য আচমকা অভিযান চালায় বর্ধমান পুরসভা ও পুলিশ। পুরপ্রধান বলেন, “প্রথম দিকে আমাদের একটু চালাকি করতে হয়েছিল। অভিযানের খবর পেলেই দোকানদাররা ঝাঁপ নামিয়ে কেটে পড়ত।”

এ দিন পুরপ্রধান ও একাধিক কাউন্সিলর শহরের বিসি রোড ও জিটি রোড লাগোয়া দোকানগুলিতে হানা দিয়ে কয়েকশো প্যাকেট গুটখা ও প্রচুর পরিমাণে ৪০ মাইক্রনের নীচের পলিথিনের ব্যাগ বাজেয়াপ্ত করে। পুরসভা সূত্রে জানা যায়, গত ১০ তারিখ থেকে শহরে ৪০ মাইক্রনের নীচে প্লাস্টিক ব্যাগ ও দোকানে গুটখা বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে শহরে প্রচারও চালায় পুরসভা।

পুরপিতা পরিষদের সদস্য খোকন দাস বলেন, “সোমবার বিকেলে জিটি রোড ও বিসি রোড এলাকার একাংশে অভিযান চালানো হয়েছে। প্রথম দিন বলে কোনও জরিমানা করা হয়নি। এই অভিযানের মধ্যে দিয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেওয়া হল।” পুরসভা সূত্রে জানানো হয়েছে, গুটখা বিক্রি করলে বিক্রেতার ৫০০ টাকা ও ক্রেতার ৫০ টাকা জরিমানা হবে।

এ দিন হাতে গোনা কয়েকটি দোকানে অভিযানের পরেই দেখা যায়, দোকানদাররা ঝাঁপ বন্ধ করে দিয়েছেন, কিংবা গুটখার প্যাকেট সরিয়ে ফেলেছেন। রানিগঞ্জ বাজারের চৌমাথায় বিচিত্রা সিনেমার গলিতে এক ব্যবসায়ী ভয়ে দোকান ছেড়ে পালিয়ে যান। ওই দোকানের গুটখা অবশ্য বাজেয়াপ্ত করেছে পুরসভা। পুরপ্রধান বলেন, “গুটখা বিক্রি নিয়ে সচেতন নন ব্যবসায়ীরা। তবে আগের চেয়ে অনেক বেশি ৪০ মাইক্রনের উপর প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার হচ্ছে। লাগাতার অভিযান ও সচেতন তৈরির কাজ চালিয়ে যেতে হবে।”