চন্দ্রযান ২-এর ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে যোগাযোগ। তা সত্ত্বেও নিরাশ হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি, জানালেন সাহা ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্স ও ভ্যারিয়েবল এনার্জি সাইক্লোট্রন সেন্টারের প্রাক্তন ডিরেক্টর, বিজ্ঞানী বিকাশ সিংহ। শনিবার দুর্গাপুরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (এনআইটি) ১৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে তিনি বলেন, ‘‘বিক্রম যে জায়গায় আছে সেখান থেকেও চাঁদে জল, খনিজ, হিলিয়ামের অস্তিত্ব অনেকখানি জানা সম্ভব। পুরোপুরি নিশ্চয় জানা যাবে না। তবে অনেকখানি জানা যাবে। তবে ফের সংযোগ স্থাপন হবে বলে আশাবাদী আমি। হয়তো তখন সে নামবে চাঁদে। তবে না নামলেও হতাশ হওয়ার মতো কিছু হয়নি।’’

এনআইটি-র এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে শুক্রবার সন্ধ্যায় দুর্গাপুরে আসেন বিকাশবাবু। সে দিন তিনি বলেছিলেন, ‘‘শ্রীহরিকোটা থেকে রকেট ছাড়ার পর থেকে সব কিছু দারুণ ভাবে চলেছে। আগামী ভোরের পরে মহাকাশ বিজ্ঞানে পৃথিবীতে এক নম্বর হবে আমাদের দেশ।’’ বিক্রমের সঙ্গে সংযোগ ছিন্ন হওয়ার খবর জানার পরেও অবশ্য হাল ছাড়তে নারাজ তিনি। তিনি বলেন, ‘‘ইসরোর বিজ্ঞানীরা কেউ হাল ছাড়েননি। তাই ফের সংযোগ স্থাপন হবে বলে আমি আশাবাদী।’’ তিনি জানান, এই অভিযান বিজ্ঞানীদের জন্য বড় কৃতিত্বের। মাত্র দু’কিলোমিটার দূরে ল্যান্ডারের অবস্থান। ল্যান্ডারের সঙ্গে থাকা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে চাঁদে জল, খনিজ বা হিলিয়ামের অস্তিত্ব সম্পর্কে অনেক কিছু বোঝা সম্ভব বলে মনে করছেন তিনি।

এ দিন সমাবর্তনে তাঁর বক্তব্যেও ইসরোর এই অভিযানের প্রসঙ্গ তোলেন প্রবীণ এই বিজ্ঞানী। যে ভাবে ইসরোর বিজ্ঞানীরা রকেট উৎক্ষেপণের বিষয়ে প্রাথমিক ত্রুটি শুধরে ফের সফল ভাবে তা উৎক্ষেপণ করেন, তার প্রশংসা করে বিকাশবাবু বলেন, ‘‘বিজ্ঞানে সব কিছুই হতে হবে অতি নিঁখুত। তাই বিজ্ঞান পড়তেও হবে নিখুঁত ভাবে।’’ অনুষ্ঠানে ছিলেন কানপুর আইআইটি-র প্রাক্তন ডিরেক্টর তথা বর্তমানে খড়গপুর আইআইটি-র সঙ্গে যুক্ত ইন্দ্রনীল মান্না, এনআইটি-র ডিরেক্টর অনুপম বসু প্রমুখ।  

রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের অসুস্থতা প্রসঙ্গে এ দিন বিকাশবাবু বলেন, ‘‘প্রেসিডেন্সি কলেজে এক সঙ্গে পড়েছি। আমার খুব ভাল বন্ধু। তাঁর শারীরিক অবস্থায় আমার খুব মন খারাপ। আমি তাঁর আরোগ্য কামনা করি।’’