ফের দুর্ঘটনা ২ নম্বর জাতীয় সড়কে। এ বার দুর্ঘটনাগ্রস্ত খোদ পশ্চিম বর্ধমানের জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতির গাড়ি। জখম হয়েছেন সহ-সভাধিপতি এবং তাঁর গাড়ির চালক। শনিবার বিকেলে রানিগঞ্জের লালবাংলা মোড়ের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ জানায়, আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেলা সফরের আগে এ দিন দুর্গাপুরে একটি প্রশাসনিক বৈঠক আয়োজিত হয়। সেখান থেকে বৈঠক সেরে আসানসোলে ফিরছিলেন সহ-সভাধিপতি সুধাকর কর্মকার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রানিগঞ্জের রানিসায়রের কাছে লালবাংলা মোড় লাগোয়া এলাকায় দুর্গাপুরগামী রাস্তা থেকে একটি ডাম্পার দ্রুত গতিতে উল্টো দিকে ঢুকে পড়ে। ঠিক ওই সময়েই আসানসোলগামী সুধাকরবাবুর গাড়িটির পাশে সজোরে ধাক্কা মারে ডাম্পারটি। টাল সামলাতে না পেরে উল্টে যায় সুধাকরবাবুর গাড়ি। বিকট শব্দ পেয়ে স্থানীয়রাই ছুটে এসে দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি থেকে সুধাকরবাবু ও চালককে উদ্ধার করেন। অন্য একটি গাড়িতে দু’জনকে চাপিয়ে আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সুধাকরবাবুর গাড়ির কিছুটা আগেই যাচ্ছিল জেলা সভাধিপতি বিশ্বনাথ বাউড়ির গাড়ি। তিনি দুর্ঘটনার খবর পাওয়ামাত্র গাড়ি ঘুরিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বিশ্বনাথবাবু বলেন, ‘‘বরাত জোরে রক্ষা পেয়েছেন সুধাকরবাবু। তাঁর চিকিৎসা চলছে।’’

জেলা হাসপাতালের সুপার নিখিলচন্দ্র দাস জানান, সহ-সভাধিপতির অবস্থা স্থিতিশীল। তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে সুধাকরবাবুর গাড়ির চালক গুরুতর জখম। তাঁর চিকিৎসা চলছে জেলা হাসপাতালেই।

এই ঘটনার পরে বিশ্বনাথবাবুর অভিযোগ, ‘‘জাতীয় সড়কে ডাম্পারগুলি বেপরোয়া ভাবে চলছে। এ দিনও এই কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।’’ গোটা রাজ্যের মতো এ জেলাতেও ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’ কর্মসূচি চলছে। এমনকী কিছু দিন আগে পুলিশ যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে স্পিড গান আনার কথাও জানিয়েছিল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। কিন্তু এত কিছুর পরেও জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনায় লাগাম টানা যাচ্ছে না বলেই মত জেলার নানা প্রান্তের বাসিন্দাদের। সম্প্রতি এই রাস্তার উপরেই কাঁকসার রাজবাঁধে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেমেয়েকে নিতে মোটরবাইকে করে এসেছিলেন এক ব্যক্তি। সেই সময়ে দুর্ঘটনাই প্রাণ যায় তিন জনেরই। সাইকেল নিয়ে রাস্তা পারপার করার সময়ে সম্প্রতি এক ব্যক্তি জখম হন পানাগড় গ্রামের কাছে। যার জেরে রাস্তা অবরোধও করেছিলেন বাসিন্দাদের একাংশ।

পুলিশ যদিও জানিয়েছে, ডাম্পারটিকে আটক করা হয়েছে। তবে ডাম্পারের চালক ও খালাসি চম্পট দিয়েছেন। এই দুর্ঘটনার পরে জাতীয় সড়কে গাড়ির গতির ধুম নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হবে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।