• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

দুর্গাপুরের পথে দাপাচ্ছে বাইক, গাড়ি

একটি বাইকে একাধিক আরোহী থাকলে ছোঁয়া এড়ানো সম্ভব নয়। বাইকে বলতে বলতে যাওয়ার সময়ে ‘ড্রপলেট’ থেকেও সংক্রমণের ভয় থাকছে। দেবব্রত দাস, সুপার, দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল

Durgapur
জমজমাট: দেখে বোঝার উপায় নেই ‘লকডাউন’ চলছে। রবিবার দুর্গাপুরে সিটি সেন্টারে কবিগুরু এলাকায়। ছবি: বিকাশ মশান

এক সঙ্গে বহু মানুষের রাস্তায় বেরনোর রেওয়াজ কমেনি ‘লকডাউন’ শুরু হওয়ার প্রায় সপ্তাহখানেক পরেও। রাস্তায় মোটরবাইক ও গাড়ির ভিড় দেখে এক এক সময় বোঝার উপায় নেই যে ‘লকডাউন’ চলছে। আবার এক বাইক বা স্কুটিতে দু’জন করে তো থাকছেনই। এমনকি তিন জনও যাতায়াত করছেন, এমন ছবি দেখা গিয়েছে দুর্গাপুরে। ফলে, করোনা সতর্কতা কার্যত শিকেয় উঠছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।

দুর্গাপুরে ভিড় এড়াতে বিভিন্ন বাজার সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সংলগ্ন কোনও ফাঁকা মাঠে। এতে ক্রেতা ও বিক্র‌েতাদের মধ্যে নির্দিষ্ট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। আনাজ বাজার কতক্ষণ খোলা থাকবে তাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে প্রশাসন। তা সত্ত্বেও একই সময়ে বহু মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে পড়ছেন বলে দাবি পুলিশ ও প্রশাসনের একাংশের। শনিবার দুপুরে ২ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে বেরনো মহাত্মা গাঁধী রোডে গিয়ে দেখা গেল, গাঁধী মোড় থেকে ডিএসপি টাউনশিপে ঢোকার ওই রাস্তা দিয়ে ছুটে চলেছে একের পর এক গাড়ি, বাইক, স্কুটি। বহু বাইক, স্কুটিতেই দু’জন করে আরোহী। কোনও কোনও বাইকে তিন জনও নজরে এসেছে। রবিবার সকালে একই ছবি দেখা গিয়েছে কবিগুরু রোডে। ডিএসপি টাউনশিপের সঙ্গে সিটি সেন্টারের সংযোগকারী ওই রাস্তায় একটানা গাড়ি ও বাইকের যাতায়াত নজরে পড়েছে।

মহকুমাশাসক (দুর্গাপুর) অনির্বাণ কোলে জানিয়েছেন, এক সঙ্গে বহু মানুষকে না বেরোতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহের কোনও সমস্যা নেই। তাই কোনও সামগ্রীর আকাল নেই। তাই অযথা আতঙ্কিত হয়ে বাজারে ভিড় করার দরকার নেই। তিনি বলেন, ‘‘এর পরেও মানুষ ভিড় করে বাজারে যাচ্ছেন। সকলকে পরিস্থিতি বুঝতে হবে। আমাদের আবেদন, সবাই বিধিনিষেধ মেনে প্রশাসনকে সহযোগিতা করুন।’’ ডিসি (পূর্ব) অভিষেক গুপ্ত বলেন, ‘‘জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বেরনো কাউকে আটকানো হচ্ছে না। তবে অকারণে কেউ বেরোলে তাঁকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।’’

দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে মানুষকে আরও বেশি করে ‘ঘরবন্দি’ থাকার পক্ষে সওয়াল করছেন চিকিৎসকেরা। তাঁদের ক্ষোভ, কিন্তু পরিস্থিতি বদলাচ্ছে না। দুর্গাপুরে একই বাইকে দু’জন এমনকি তিন জন আরোহীকে একসঙ্গে যেতে দেখা যাচ্ছে। যেখানে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে একই বাইকে গায়ে গা লাগিয়ে যাতায়াত করছেন অনেকেই। এর ফলে করোনা সংক্রমণের আতঙ্ক বাড়ছে বলে দাবি বাসিন্দাদের একাংশের।

বিপদ বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকেরাও। দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের সুপার দেবব্রত দাস বলেন, ‘‘ভাইরাসটি মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হচ্ছে। স্পর্শ এড়িয়ে চলতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। সে ক্ষেত্রে একটি বাইকে একাধিক আরোহী থাকলে ছোঁয়া এড়ানো সম্ভব নয়। তা ছাড়া বাইকে বসে কথা বলতে বলতে যাওয়ার সময় ‘ড্রপলেট’ থেকেও সংক্রমণের ভয় থাকছে।’’ সকলকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন হাসপাতাল সুপার।

অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিয়ো আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, feedback@abpdigital.in ঠিকানায়। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন