বড় বড় ফেস্টুন, ব্যানার, হোর্ডিংয়ে শোভা পাচ্ছে নানা প্রকল্পের বিজ্ঞাপন। ভোট ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরকারি জায়গা থেকে সে সব সরিয়ে ফেলার কথা। কিন্তু সোমবার বিকালেও নানা এলাকায় সেই ধরনের ব্যানার-হোর্ডিং দেখা গিয়েছে। প্রশাসনের দাবি, দ্রুত সব সরানো হবে। 

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা রয়েছে, ভোট ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরকারি সমস্ত জায়গা থেকে সরকারের সমস্ত প্রচার সরিয়ে ফেলতে হবে। বেসরকারি জায়গা থেকে সেগুলি সরাতে হবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে। ভোট ঘোষণার আগেই কমিশনের সেই নির্দেশিকা এসে পৌঁছেছে প্রশাসনের কাছে। অতিরিক্ত জেলাশাসক অরিন্দম রায় বলেন, ‘‘হোর্ডিং খুলে ফেলার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব হোর্ডিং খুলে ফেলা হবে।’’ 

সোমবার দুর্গাপুরে মহকুমাশাসকের অফিসে সর্বদল বৈঠকে বিরোধী দলের নেতারা প্রশাসনের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি দেওয়া বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের প্রচারের ব্যানার, হোর্ডিং সরিয়ে ফেলার দাবি জানান। এ দিন বিকালে দুর্গাপুরের আদালত চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, মুখ্যমন্ত্রীর ছবি-সহ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের প্রচারের বিশাল হোর্ডিং তখনও সরানো হয়নি। এডিডিএ-র অতিথিশালার সামনে রাস্তাতেও দেখা গিয়েছে একই ছবি। তৃণমূল সূত্রের দাবি, শহরের নানা পেট্রল পাম্প এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের দেওয়ালে প্রধানমন্ত্রীর ছবি দেওয়া ব্যানারও এ দিন পর্যন্ত রয়েছে।

হোর্ডিং, ফেস্টুন, ব্যানারের মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পের প্রচারে ছেয়ে গিয়েছে শহর। বিভিন্ন সরকারি অফিস ও জনবহুল এলাকায় সেগুলি লাগানো হয়েছে। সে সব দ্রুত সরিয়ে এলাকা পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ শুরু হয়ে গিয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। মহকুমাশাসক (দুর্গাপুর) অনির্বান কোলে জানান, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে সরকারি হোর্ডিং, ফেস্টুন, ব্যানার সরিয়ে ফেলার প্রস্তুতি চলছে। দ্রুত এই কাজ হবে। ইতিমধ্যেই তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি জায়গায় রাজনৈতিক দলের প্রচারও করা যাবে না। আদর্শ নির্বাচন বিধি মানা হচ্ছে কি না তা দেখার কাজ শুরু করেছে মডেল কোড অব কন্ডাক্ট (এমসিসি) সেল।

এ বার প্লাস্টিক-মুক্ত প্রচারের উপরে জোর দিয়েছে কমিশন। মহকুমা প্রশাসনের তরফে সব রাজনৈতিক দলকে তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মহকুমাশাসক (দুর্গাপুর) জানান, এক বার ব্যবহার করা যাবে প্রচারে এমন প্লাস্টিক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলিকে। পরিবেশ বাঁচাতেই এই পদক্ষেপ, জানান তিনি।

নির্বাচন বিধি মেনে চলার জন্য এ দিন সব রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানিয়েছেন জেলাশাসক শশাঙ্ক শেঠি। তিনি জানান, গত ১ জানুয়ারি পর্যন্ত জেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা একুশ লক্ষ পাঁচ হাজার দু’শো তেরো। আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে মোট ভোটার প্রায় ষোলো লক্ষ সাত হাজার।