• কেদারনাথ ভট্টাচার্য
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

অর্ধেক ব্যবসাও হবে কি,সংশয়ে চাঁদমালা শিল্পীরা

পুজোর মরসুমের উপরেই নির্ভরশীল তাঁদের সারা বছরের আয়ের বড় অংশ। এ বার করোনার আবহে কেমন বরাত পাচ্ছেন নানা শিল্পের সঙ্গে জড়িতেরা, খোঁজ নিল আনন্দবাজার

Artisans
তৈরি হয়ে পড়ে রয়েছে প্লাস্টিকের রঙিন মালা, কালনায়। ছবি: জাভেদ আরফিন মণ্ডল

 

খরচ কমাতে হবে, এ বার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বেশিরভাগ পুজো উদ্যোক্তা। সে জন্য মণ্ডপ থেকে প্রতিমা, অনেক কিছুর বাজেটেই কোপ পড়ছে। সেই সঙ্গে বাদ দেওয়া হচ্ছে আনুষঙ্গিক নানা খরচ। পুজো মরসুমে তাই বিক্রি নিয়ে আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন কালনার চাঁদমালা শিল্পীরা।
 
বহু বছর ধরে কালনার বেশ কিছু শিল্পী চাঁদমালা ও প্লাস্টিকের মালা তৈরির কাজ করেন। তাঁরা জানান, দুর্গাপুজোর সময়ে চাঁদমালার চাহিদা থাকে তুঙ্গে। সে জন্য প্রস্তুতি নিতে হয় সরস্বতী পুজোর পর থেকেই। দুর্গাপুজোর মাস পাঁচেক আগে থেকে নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি জেলার বহু ব্যবসায়ী বরাত দিতে শুরু করেন। কিন্তু এ বার তেমনটা হচ্ছে না।
 
ওই শিল্পীদের দাবি, করোনা-পরিস্থিতির জেরে অনেক পুজো উদ্যোক্তা বাজেট কমাচ্ছেন। প্রতিমার আকার ছোট করা হচ্ছে। অনেক বাড়ির পুজোতেও এ বার আকারে ছোট প্রতিমার দিকে ঝোঁক। কালনা শহরে বারুইপাড়া এলাকার শিল্পী সুব্রত পাল জানান, অন্য বার ২৫ হাজারের বেশি চাঁদমালা তৈরি করা হয়। তার মধ্যে প্রায় ১,২০০ চাঁদমালা হয় আট থেকে দশ ফুট লম্বা। তাঁদের দাবি, এ বার প্রতিমার আকার ছোট হওয়ায় বড় চাঁদমালার বরাত বিশেষ নেই। যা বরাত এসেছে, ছোট-মাঝারি চাঁদমালা তৈরির।
 
শিল্পী সুব্রতবাবু বলেন, অন্য বছর ২৫ জন তাঁর কাছে কাজ করেন। এ বার স্বাস্থ্য-বিধি মেনে চলার জন্য ১২ জনকে নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। ফলে, ছোট-মাঝারি চাঁদমালার বরাতের জোগান দিতেও দিনরাত পরিশ্রম করতে হচ্ছে।  শিল্পীরা জানান, অন্য বছর প্রায় পাঁচ-ছ’লক্ষ টাকার ব্যবসা হয়। এ বার তার অর্ধেকও হবে কি না, সংশয় আছে বলে তাঁদের দাবি। চাঁদমালা তৈরিতে যুক্ত কর্মীরা জানান, অন্য বছর দশ থেকে পনেরো হাজার টাকা রোজগার হয়, এ বার সেখানে হাজার তিনেক টাকা হবে বলে মনে করছেন।
 
শিল্পীদের আরও দাবি, চাঁদমালা তৈরির অভ্র, জরি, আঠা-সহ নানা কাঁচামাল ভিন্‌রাজ্য থেকে  কলাকাতার বড়বাজারে আসে। সেখান থেকে সে সব কিনে কালনায় আনেন তাঁরা। এ বার করোনা পরিস্থিতিতে ট্রেন না চলায় কাঁচামালের জোগান নিয়ে সমস্যা রয়েছে। যেটুকু কাঁচামাল মিলছে, তার দাম বেশি। ফলে, খরচ বাড়ছে। কিন্তু বাড়তি দাম দিয়ে চাঁদামালা কিনতে রাজি হচ্ছেন না কেউ, জানান শিল্পীরা। কালনা লাগোয়া নানা গ্রামে বহু পরিবার চাঁদমালা তৈরি করে। কিন্তু এই কাঁচামালের জোগানের জন্য সমস্যায় পড়েছে তারাও।
 

ইদ, বিশ্বকর্মা পুজো থেকে দুর্গাপুজোয় রঙিন প্লাস্টিকের মালার ভাল চাহিদা থাকে। মালা তৈরির সঙ্গে যুক্ত শিল্পীরা জানান, শোলা, আঠা, সুতোর মতো কাঁচামালের দর বেড়েছে অনেকটাই। অথচ, ইদ, বিশ্বকর্মা পুজোয় তেমন বিক্রি হয়নি। দুর্গাপুজোতেও বাজার ভাল হওয়ার আশা দেখছেন না তাঁরা। শিল্পী গোবিন্দ পাল, মঞ্জু পালদের কথায়, ‘‘নানা রকম মালা তৈরি করে রেখেছি। কিন্তু কেনার লোক নেই। করোনা একের পরে এক উৎসবকে ফিকে করে দিচ্ছে।’’              

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন