‘কাটমানি’ নেওয়ার অভিযোগে পোস্টার পড়ল দুর্গাপুরের কয়েকজন তৃণমূল এবং আইএনটিটিইউসি নেতার বিরুদ্ধে। বুধবার সকালে ডিএসপি টাউনশিপ, বেনাচিতির মতো নানা এলাকায় পোস্টারগুলি দেখা যায়। যদিও ‘কাটমানি’র অভিযোগ মানতে চাননি ওই তৃণমূল নেতারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিএসপি টাউনশিপের হর্ষবর্ধন রোডের হেল্‌থ সেন্টার, বেনাচিতি ডাকঘরের কাছে পোস্টারগুলি নজরে পড়ে এ দিন। তাতে পুরসভার মেয়র পারিষদ তথা আইএনটিটিইউসি-র প্রাক্তন জেলা সভাপতি প্রভাত চট্টোপাধ্যায়, ডিএসপি-র আইএনটিটিইউসি নেতা হিমাংশু আশ এবং আরও দু’জনের নাম রয়েছে। ‘কাটমানি’ ফেরত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে পোস্টারে। নীচে লেখা রয়েছে ‘তৃণমূল কর্মীবৃন্দ’।

দলের তরফে কেউ এমন পোস্টার ছড়িয়েছে তা মানতে নারাজ তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তাঁদের দাবি, নজর ঘোরাতে পোস্টারে তৃণমূলের নাম নেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর একাংশ আবার মনে করছেন, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেও এই পোস্টার পড়ে থাকতে পারে। তাঁদের দাবি, সম্প্রতি ডিএসপি টাউনশিপে সেকেন্ডারি রোডের এক মাছ ব্যবসায়ী তৃণমূলের ব্লক আহ্বায়ক জয়ন্ত রক্ষিত ও তাঁর এক সঙ্গীর বিরুদ্ধে তোলা আদায়ের অভিযোগ করেন। সেই ঘটনার জেরে স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রীনা চৌধুরীর সঙ্গে জয়ন্তবাবুর বিরোধ সামনে আসে। তৃণমূল নেতৃত্ব পরিস্থিতি সামাল দেন।

প্রভাতবাবুর পাল্টা অভিযোগ, ‘‘রাজনৈতিক ভাবে লড়াই করতে না পেরে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে নোংরা খেলায় মেতেছে বিজেপি এবং সিপিএম। ওরা পরিকল্পনা করেই এই পোস্টার দিয়েছে।’’ এ ব্যাপারে পুলিশে অভিযোগ করবেন বলেও জানান তিনি। ‘কাটমানি’র অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হিমাং‌শুবাবুও।

বিজেপি জেলা সভাপতি লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের পাল্টা অভিযোগ, ‘‘আমাদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিলেই সব ধামাচাপা পড়বে না। দিনের পর দিন তৃণমূল নেতারা কাটমানি নিয়েছেন।’’ বিজেপির দাবি, সাধারণ মানুষ তো বটেই, ভুক্তভোগী তৃণমূল কর্মীরাও কাটমানি ফেরত চাইছেন। তাই তৃণমূলের নামে পোস্টার পড়ছে। সিপিএম নেতা পঙ্কজ রায়সরকারের প্রতিক্রিয়া, ‘‘তৃণমূল নেতারা বিপদে পড়লেই বামেদের নাম নেন। প্রভাতবাবুরা যদি টাকা নিয়ে থাকেন তাহলে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে টাকা ফেরত দিন।’’