ভোট-প্রচার শুরু দেরিতে, তারকাই ভরসা বিজেপির
এ বার নির্বাচন ঘোষণা হয় ১০ মার্চ। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে প্রচারের কাজে আগেই মাঠে নেমে পড়েছিলেন বিজেপি কর্মীরা।
BJP

ছবি: পিটিআই।

বাকিদের থেকে বেশ দেরিতে শুরু হয়েছে প্রচার। তবুও বিজেপি নেতাদের দাবি, বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রের প্রচারে তাঁরা অন্য দলগুলিকে টেক্কা দিতে পারবেন। তাঁদের দাবি, প্রার্থীর নাম বাদে দেওয়াল লিখন আগেই সারা হয়ে গিয়েছিল। ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী, স্থানীয় এলাকার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এবং প্রচারে ‘তারকা-নেতা’ এনেই তাঁরা প্রচারে টেক্কা দেবেন বলে দাবি বিজেপি নেতৃত্বের।

এ বার নির্বাচন ঘোষণা হয় ১০ মার্চ। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে প্রচারের কাজে আগেই মাঠে নেমে পড়েছিলেন বিজেপি কর্মীরা। প্রার্থীর নাম বাদ রেখে দেওয়াল লিখনও সেরে ফেলা হয়। ইতিমধ্যে, তৃণমূল ও সিপিএম যথাক্রমে ১২ ও ১৫ মার্চ প্রার্থী ঘোষণা করে। জোরকদমে প্রচার শুরু করে দুই দলই। উল্টো দিকে, প্রার্থী নিয়ে জটিলতা তৈরি হয় বিজেপি-তে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার এক দিন আগে পর্যন্ত ওই দলের স্থানীয় নেতা, কর্মীদের কাছে কে প্রার্থী হবেন, তা স্পষ্ট ছিল না। এমনকি, অন্য দল থেকে আসা কেউ প্রার্থী হতে পারেন, এমন জল্পনায় বিজেপির জেলা সভাপতি লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের নেতৃত্বে কর্মীদের একাংশ কলকাতায় রাজ্য নেতৃত্বের কাছে আপত্তিও জানান। দলের যুব মোর্চার নেতা ভোলাকুমার সাউ তেমন পরিস্থিতি তৈরি হলে কয়েক হাজার দলীয় কর্মী-সহ পদত্যাগেরও হুমকি দেন। এই পরিস্থিতিতে ৭ এপ্রিল দার্জিলিংয়ের বিদায়ী সাংসদ সুরেন্দ্র সিংহ অহলুওয়ালিয়ার নাম এই কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে বিজেপি।

কিন্তু কী ভাবে প্রচারে টেক্কা দেওয়ার পরিকল্পনা নিচ্ছে বিজেপি? বিজেপির স্থানীয় নেতা, কর্মীরা জানান, এলাকার সঙ্গে প্রার্থীর পূর্ব পরিচিতি তাঁদের কাজ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। যদিও সিপিএম ও তৃণমূল নেতৃত্ব এই ‘যুক্তি’ খণ্ডন করে জানান, তাঁদের প্রার্থীরাও স্থানীয়। সিপিএম প্রার্থী আভাস রায়চৌধুরীর সঙ্গে বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রের গ্রামীণ ও শহর, দুই এলাকারই নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। তৃণমূল প্রার্থী মমতাজ সংঘমিতা গত বারের সাংসদ হওয়ায় তাঁকেও নতুন করে ‘পরিচিত’ করানোর কোনও ঝক্কি নেই।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

বিজেপি নেতৃত্বের আরও দাবি, সুরেন্দ্রবাবু এক জন ‘স্টার ক্যাম্পেনার’। তা ছাড়া গত বার এই কেন্দ্রে ‘বহিরাগত’ প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও বিজেপি ১৮ শতাংশ ভোট পায়। এ বার সেই প্রাপ্তি বাড়বে বলে দাবি বিজেপির। তা ছাড়া এই কেন্দ্রে অন্তত ১২ শতাংশ অবাঙালি ভোটার। সেটাও সুরেন্দ্রেবাবুর পক্ষে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিজেপি নেতৃত্ব। ‘স্টার ক্যাম্পেনারে’র প্রচারেও ‘তারকা-মূল্য’ যোগ করে অন্যদের টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে বিজেপি সূত্রের দাবি। ওই সূত্রের দাবি, নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, রাজনাথ সিংহ বা যোগী আদিত্যনাথের মতো বিজেপির ‘সর্বভারতীয় তারকা’-দের এই লোকসভা কেন্দ্রে সভা করানোর চেষ্টা চলছে। লক্ষ্মণবাবুর দাবি, ‘‘হাতে এখনও অনেকটা সময় রয়েছে। প্রার্থী ও দলীয় কর্মীরা জোরকদমে প্রচার করছেন। কেন্দ্রীয় নেতারা আসবেন জনসভা করতে। সব মিলিয়ে দেরিতে প্রচার শুরু করার ঘাটতি পুষিয়ে যাবে। কোনও সমস্যা হবে না।’’

তবে বিজেপির প্রার্থী বা প্রচারকদের ‘তারকা-মূল্য’ মানতে চাননি সিপিএম ও তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের মতে, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতার এখানে সভা করেও বিশেষ লাভ করতে পারবেন না। তৃণমূলের জেলা সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘বিজেপির কোনও স্থান নেই এই কেন্দ্রে। আমাদের প্রচার খুবই ভাল হচ্ছে। ফল ফের আমাদের পক্ষেই যাবে।’’ সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য পঙ্কজ রায় সরকারের বক্তব্য, ‘‘আমরা তারকা নয়, মানুষে আস্থা রাখি। আমাদের প্রার্থী ও দলের নেতা, কর্মীরা নাগরিকদের কাছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের নানা জনবিরোধী নীতির কথা বলছি। তাঁরা আমাদেরই ভোট দেবেন।’’

২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত