রাস্তা ধসে যাওয়ায় উল্টে গিয়েছিল বালি বোঝাই ট্রাক। তাতে চাপা পড়ে মৃত্যু হল দুই পথচারীর। বালি সরিয়ে আরও দু’জনকে উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রবিবার সকালে পূর্বস্থলী ২ ব্লকের ফলেয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনার পরে এলাকায় ক্ষোভ-বিক্ষোভ হয়। খারাপ রাস্তাটি সারানো ও অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই গাড়ি চলাচল বন্ধের দাবিতে লাগোয়া রেললাইনে ঘণ্টাখানেক অবরোধ করেন বাসিন্দারা।

পুলিশ জানায়, মৃত মুসলিম শেখ (৩৫) স্থানীয় বাবুইডাঙা ও সাহিদুল শেখ (২৫) সাজিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা। এ দিন সকালে স্ত্রী সাবিনা বিবি ও বছর আটেকের ছেলে জাফিরকে নিয়ে সাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন মুসলিম। বাজারে আনাজ বিক্রি করে খালি ভ্যান নিয়ে ফিরছিলেন সাহিদুল। সেই সময়েই তাঁদের উপরে উল্টে পড়ে ট্রাকটি। জাফির ও সাবিনাকে আশপাশের লোকজন উদ্ধার করলেও দুই যুবককে বাঁচানো যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ট্রাকটি বালি নিয়ে রামপুরহাট থেকে মেড়তলা যাচ্ছিল। সেটির চালক ফলেয়ায় একটি দোকানের সামনে ট্রাক রেখে চা খেতে যান। ফিরে এসে গাড়ি চালু করতেই রাস্তার একাংশ ধসে সেটি উল্টে যায়। চাপা পড়ে যান চার পথচারী। পাশে রাখা একটি গাড়িও দুমড়ে-মুচড়ে যায়। বালির স্তুপ সরিয়ে বের করা হয় জাফির ও সাবিনাকে। পরে মুসলিম ও সাহিদুলকে পূর্বস্থলী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত ঘোষণা করা হয়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃতদের পরিজনেরা। পরিবারের লোকজন জানান, রামনগর এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে এ দিন স্ত্রী ও                                                                তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন মুসলিম। সাজিয়ারার বাসিন্দারা জানান, সাহিদুলের বিয়ে ঠিক হয়েছিল। দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এ দিন দুর্ঘটনার পরে হাজার কয়েক মানুষ জড়ো হন। স্থানীয় বাসিন্দা তরুণ বাগ, রাজ ঘোষ, মিলন মির্ধাদের ক্ষোভ, কালেখাঁতলা মোড় থেকে সাজিয়ারা পর্যন্ত রাস্তাটি কার্যত মরনফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অজস্র গর্ত তৈরি হয়েছে। মাঝে-মধ্যে রাস্তায় ধসও দেখা দিচ্ছে। বছর দশেক আগে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় তৈরি হলেও দীর্ঘদিন রাস্তাটি সংস্কার হয়নি। সেখান দিয়েই চলছে অতিরিক্ত বালি বোঝাই ট্রাক। বাসিন্দাদের দাবি, কালীপুজোর আগের দিন এই রাস্তায় মোটরভ্যান থেকে পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছিল।

এ দিন ঘটনাস্থলে যান পূর্বস্থলী উত্তরের বিধায়ক প্রদীপ সাহা। তিনিও বলেন, ‘‘রাস্তাটি চলার অযোগ্য এবং বিপজ্জনক। জেলা প্রশাসন ও বিধানসভায় রাস্তা সারানোর জন্য জানিয়েছে। কেন তা হচ্ছে না, বুঝতে পারছি না!’’ এ দিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে প্রাক্তন বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘মৃতদের পরিবারের সদস্যেরা যাতে ক্ষতিপূরণ পান, সেই চেষ্টা করছি।’’