পর্যটন উৎসব শুরু হল কালনা শহরের রাজবাড়ি মাঠে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উৎসবের উদ্বোধন করেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ।

উৎসবে আলোয় সেজেছে কালনা রাজবাড়ি কমপ্লেক্সের প্রাচীন মন্দিরগুলি। উৎসব কমিটি জানায়, উৎসব চলবে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিনই রয়েছে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানে যেমন স্থানীয় স্কুলের পড়ুয়াদের সুযোগ দেওয়া দেওয়া হবে, তেমনই নানা খ্যাতনামা শিল্পীরাও আসবেন। 

এ দিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পপতি সুশীল মিশ্র বলেন, ‘‘কালনায় অপূর্ব কিছু নিদর্শন রয়েছে। সেগুলির জন্য বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াত ক্রমে বাড়ছে। তবে শহরে রাতে থাকার তেমন জায়গা না থাকায় পর্যটকেরা দ্রুত ফিরে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে উদ্যোগী হতে হবে।’’ তাঁর দাবি, রাতে থাকার জায়গার অভাবেই রাজবাড়ি চত্বর ও ১০৮ শিবমন্দিরে আলোর কারসাজি পর্যটকদের দেখানো সম্ভব হয় না। 

আর এক শিল্পদ্যোগী সুব্রত পালের দাবি, আগের বার পর্যটন উৎসবে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, একটি বড় লজ তৈরি করবেন। সেটির কাজ শীঘ্রই শুরু করতে চলেছেন।’’ অনুষ্ঠানে সুব্রতবাবুর ঘোষণা, কালনায় তিনি একটি ১২১ ফুট লম্বা শিবমূর্তি গড়ার ব্যাপারেও সহযোগিতা করবেন। তাতে পর্যটকদের আরও উৎসাহ বাড়বে বলে তাঁর ধারণা।

উদ্যোক্তাদের প্রশংসা করে মন্ত্রী স্বপনবাবু বলেন, ‘‘কালনার বিধায়ক বিশ্বজিৎ কুণ্ডর উদ্যোগে এই উৎসব ছ’বছরে পড়ল। রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে কালনা ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।’’ তিনি জানান, উৎসব কমিটি পর্যটকদের জন্য লজ তৈরির উদ্দেশ্যে একটি জমি কিনেছে। সে ব্যাপারে সহযোগিতা করবে                         জেলা পরিষদ।

 এ বার উৎসব উপলক্ষে বসেছে ক্রেতা সুরক্ষা-সহ বিভিন্ন দফতরের স্টল। মূল মঞ্চের এক পাশে রয়েছে নানা খাবারের স্টল। মাঠের মধ্যে ঝুড়ি বুনে বিক্রি করছেন এক দল মহিলা। উৎসব কমিটির আহ্বায়ক তথা কালনার বিধায়ক বিশ্বজিৎবাবু বলেন, ‘‘পর্যটকদের কাছে কালনাকে তুলে ধরার জন্যই এই উৎসব।’’ অনুষ্ঠানে ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধারা, সহ-সভাধিপতি দেবু টুডু, কালনা ২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি প্রণব রায়, জেলা যুব তৃণমূল সম্পাদক সৌরভ দেবনাথ প্রমুখ।