• সৌমেন দত্ত
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সুখাদ্যের টানে হাসপাতালে ফেরার ‘আবদার’

Hospital
প্রতীকী ছবি
এক মাস আগে করোনা-হেল্পলাইন খুলেছে বর্ধমান পুরসভা। তাতে করোনার পাশাপাশি, অন্য নানা বিষয়ে প্রশ্ন, নালিশ আসছিলই। কিন্তু সে সবকে ছাপিয়ে গিয়েছে সুস্থ হয়েও কোভিড হাসপাতালে ফের ভর্তি চাওয়ার ‘আবদার’। কারণ, সেখানে ‘খাবার খুব ভাল’। এমনই দাবি হেল্পলাইনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের।
 
পুরসভা সূত্রের খবর, সম্প্রতি মাঝরাতে ফোনে এক জন দাবি করেন, ‘করোনা হওয়ায় কোভিড হাসপাতালে ছিলাম। এখন বাড়িতে। কিন্তু শরীর ফের খারাপ লাগছে’। বর্ধমান শহরের ওই ‘রোগী’কে বামচাঁদাইপুরের কোভিড হাসপাতালে পৌঁছতে পুরসভা ফোন করে অ্যাম্বুল্যান্সে। কিন্তু শারীরিক পরীক্ষার পরে, ‘রোগী’র অবস্থা ভর্তি নেওয়ার মতো নয় বলে কোভিড-হাসপাতাল। একই কারণে ভর্তি নেয়নি বর্ধমান মেডিক্যালও।
 
কিন্তু ‘রোগী’ জেদ ধরেন কোভিড হাসপাতালেই তাঁকে ভর্তি করাতে হবে। অ্য়াম্বুল্যাস চালকের কাছে তাঁর দাবি, ‘ওখানে খাবারটা বড্ড ভাল দিচ্ছিল’। অ্যাম্বুল্যান্স-চালক পুরসভার তরফে কোভিভ-ম্যানেজমেন্টের নোডাল অফিসার জয়রঞ্জন সেনকে ঘটনা জানান। জয়রঞ্জনবাবু বলেন, “ভদ্রলোক সুস্থ। স্রেফ বিনা পয়সায় ভাল খাবার পাবেন বলে ওই আবদার করছিলেন। বুঝিয়ে তাকে বাড়ি পাঠানো হয়।’’
 
প্রথম দিকে কোভিড-হাসপাতালে মোটা চালের ভাত দেওয়ায় ক্ষোভ জানান রোগীদের একাংশ। স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, বদলানো হয় চাল এবং মেনু। এখন জলখাবারে দু’পিস সেঁকা পাউরুটি, ছানা, ডিম, দুপুরে সরু চালের ভাত, ডাল, তরকারির সঙ্গে মাছ, মাংস, ডিমের যে কোনও একটি বরাদ্দ। সন্ধ্যায় চা-বিস্কুট। চায়ে আপত্তি হলে, দুধ। রাতে রুটি-মুরগির মাংস। ডেপুটি সিএমওএইচ (২) সুনেত্রা মজুমদারের দাবি, “কোভিড হাসপাতালের খাবার নিয়ে প্রশংসা পাচ্ছি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিনিধিও প্রশংসা করেছেন। ওখানকার খাবারের স্বাদ  কারও মুখে লেগে থাকতেই পারে।’’
 
হেল্পলাইনের দায়িত্বে থাকা পুরকর্মীদের দাবি, নিত্য জল-জঞ্জাল-পথবাতির সমস্যা জানিয়ে ফোন আসে। ‘মাতলামি’র নালিশ এসেছে। জুটেছে গালাগালিও। জয়রঞ্জনবাবু বলেন, “সামান্য বিড়ম্বনা হচ্ছে! তবে অনেকের সাড়া পাচ্ছি। প্রশংসাও অনেকে করছেন। সেটা বড় পাওনা।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন