কুড়ি দিন আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন প্রৌঢ়া। তার পরে আর খোঁজ মেলেনি। শেষমেশ সপ্তমীর দিন, শনিবার বছর পঞ্চান্নর ওই মহিলাকে তাঁর ছেলের হাতে তুলে দিল পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার পুলিশ।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার মেমারির চকদিঘি মোড়ে অপরিচিত এক জনকে ইতস্তত ঘোরাঘুরি করতে দেখেন এলাকাবাসী। কিন্তু তাঁকে উদ্ধার করতে গেলে বিপত্তি বাধে। পুলিশকর্মীরা জানান, পুলিশ দেখেই ওই মহিলা ইট, পাথর ছুড়তে থাকেন। পরে শান্ত হলে তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

থানায় কথা প্রসঙ্গে তিনি নিজের নাম বলে জানান, হাওড়ার সাঁতরাগাছিতে থাকেন। তাঁর সঙ্গে থাকা মোবাইল থেকে একটি নম্বর পেয়ে বাড়িতে যোগাযোগ করে পুলিশ। ফোনে জানা যায়, মহিলার বাড়ি রয়েছে কানপুর, কলকাতাতেও। প্রৌঢ়ার কাছে থাকা নথিপত্রে দেখা যায়, তাঁর বাড়ির ঠিকানা হিসেবে গড়িয়া লেখা রয়েছে। 

খবর পেয়ে শনিবার মেমারি আসেন প্রৌঢ়ার ছেলে। তিনি জানান, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে সমস্যার জেরে তাঁর মায়ের মানসিক সমস্যা রয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘‘মা আগেও বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু দ্রুত ফিরেও এসেছেন। এ বারের মতো এত দিন মা বাড়ি ছেড়ে ছিলেন না। উনি সম্ভবত বারাণসী গিয়েছিলেন। সেখান থেকে মেমারিতে কী করে এলেন, বুঝতে পারছি না।’’

শনিবার বাড়ি ফেরার পথে হাসি ফোটে প্রৌঢ়ার মুখেও। তা দেখে ছেলে বলেন, ‘‘ভীষণ চিন্তায় ছিলাম। 

সপ্তমীতে মা বাড়ি ফিরছেন, এটাই সব চেয়ে আনন্দের।’’ মেমারি থানার পুলিশ জানায়, প্রৌঢ়াকে নতুন জামাকাপড় দেওয়া হয়েছে। ব্যবস্থা করা হয় চিকিৎসারও। 

জেলা পুলিশের আর্জি, এ ভাবে এলাকায় অপরিচিত কাউকে ঘোরাঘুরি করতে দেখলে যেন যোগাযোগ করা হয় নিকটবর্তী থানায়।