হুল  দিবস উপলক্ষে  সরকারি অনুষ্ঠানমঞ্চে বক্তব্য পেশ করছিলেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। খবর এল, অনুষ্ঠানে আসছেন হুগলি লোকসভার সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। শোনামাত্রই দ্রুত বক্তৃতা শেষ করে মঞ্চ ছাড়লেন সরকারি আধিকারিকরা। আর লকেট যখন মঞ্চে এলেন, তখন বক্তা হিসেবে ছিলেন তিনি একাই। পাশের সব আসনও ছিল ফাঁকা।

রবিবার দুপুরে এমন ঘটনারই সাক্ষী রইল বলাগড় ব্লকের মহীপালপুর পঞ্চায়েতের কামারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়। এমন ঘটনায় তাজ্জব দর্শকরাও।

রবিবার বেলা এগারোটা নাগাদ শুরু হয় অনুষ্ঠান। আদিবাসী সম্প্রদয়ের পতাকা ও জাতীয় পতাকা তোলেন বলাগড়ের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পায়েল পাল। ছিলেন সদর মহকুমাশাসক অরিন্দম বিশ্বাস ও বলাগড়ের বিডিও সমিত সরকার, মহীপালপুরের পঞ্চায়েত প্রধান সৌরভ বিশ্বাস। এছাড়াও ব্লকের বিভিন্ন পঞ্চায়েত প্রধান, উপপ্রধানরা।

অনুষ্ঠান চলাকালীন খবর আসে,  হুগলি লোকসভার বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় আসছেন। সেটা শোনার পরই মহকুমাশাসক অরিন্দম বিশ্বাস ও বলাগড়ের বিডিও সমিত সরকার ছোট ভাষণ দিয়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বাকিরাও বক্তব্য শেষ করেন দ্রুত।

লকেট মঞ্চে উঠতেই এসডিও, বিডিও মঞ্চ ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ। মঞ্চের সব চেয়ার ফাঁকা হয়ে যায়। একমাত্র বসে ছিলেন লকেটই। ফাঁকা মঞ্চ, কিন্ত দর্শকাসন কানায় কানায় ভরা। এই পরিস্থিতিতে  কিছুটা তাল কাটে অনুষ্ঠানের। তবে পরিস্থিতি সামাল দেন লকেট।

মাইক হাতে নিয়ে লকেট বলেন, ‘‘সরকারি ভাবে হুল দিবসের অনুষ্ঠান হচ্ছে বলাগড় ব্লকে। তাই আমি এলাম। অথচ ব্লক প্রশাসন আমাকে দেখে মঞ্চ ছেড়ে চলে গেলেন। আসলে সরকারি আধিকারিকরা বিজেপিকে ভয় পাচ্ছে। এটা ঠিক হল না।’’

ঘটনার কথা অস্বীকার করে বলাগড়ের বিডিও সমিত সরকার বলেন, ‘‘সাংসদের আসার খবর আমি জানতাম না। আমি তো আমন্ত্রণ করিনি। আমার কাজের তাড়া ছিল।’’ একটা কাজ ছিল তাই চলে গেছিলাম। কার্যত একই কথা সদর মহকুমা শাসক অরিন্দম বিশ্বাসেরও।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক লক্ষ্মীরাম সরেন বলেন, ‘‘জেলা অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের এই অনুষ্ঠান গত বছর পোলবায় হয়েছিল। এ বছর বলাগড়ে ব্লকে হচ্ছে। আমরা সাংসদকে আমন্ত্রণ জানানোর সময় পাইনি।’’