ভর দুপুরে মুখে রুমাল বেঁধে তিন যুবক ঢুকে পড়েছিল ব্যাঙ্কের ভিতরে। নিমেষে ম্যানেজার ও ক্যাশিয়ারের মাথায় রিভলভার ঠেকিয়ে টাকা বের করে দিতে বলে তারা। ব্যাঙ্কের ভিতরে থাকা দু’জন গ্রাহক তখন আতঙ্কে কাঁপছেন। মিনিট পনেরোর মধ্যে ৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে বাইকে চড়ে চম্পট দেয় তিনজন।

মঙ্গলবার দুপুর ২টো নাগাদ হুগলির পান্ডুয়ায় সরাই-তিন্না পঞ্চায়েতে এলাকার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখায় এ ভাবেই ডাকাতি করল দুষ্কৃতীরা। ব্যাঙ্ক ম্যানেজার ঋত্বিক প্রধানের দাবি, জিটি রোডের উপর ওই ব্যাঙ্কে যে সশস্ত্র নিরাপত্তা রক্ষী থাকেন এ দিন তিনি ব্যাঙ্কেরই কাজে বর্ধমান গিয়েছিলেন। এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়েছে দুষ্কৃতীরা। রক্ষীকে অন্য কোনও কাজে পাঠানো হলে বিষয়টি কেন পুলিশকে জানানো হয়নি, খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজ। জেলা (গ্রামীণ) পুলিশ সুপার সুকেশ জৈন বলেন, ‘‘সিসিটিভি-র হার্ড ডিস্কটি পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। বুধবার কলকাতা থেকে ওই ব্যাঙ্কের আধিকারিকরা এলে তা হাতে পাওয়া যাবে।’’ এ দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত অবশ্য কাউকে ধরতে করতে পারেনি পুলিশ।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক গ্রাহক জানান, দুপুর ১টা ৫০ মিনিট নাগাদ তিন যুবক কাচের দরজা ঠেলে ঢুকে আসে ভিতরে। রুমালে মুখ ঢাকা ওই তিনজন নিমেষে রিভলভার বের করে ‘কাজ’ শুরু করে দেয়। ভয় দেখিয়ে গ্রাহকদের বসিয়ে রাখা হয় বেঞ্চে। একজন ম্যানেজারের ঘরে গিয়ে হুমকি দিতে শুরু করে। অন্য দু’জন ক্যাশিয়ারকে ভয় দেখিয়ে লকারের চাবি হাতিয়ে নেয়। সেখানে থেকে লুঠ করা হয় ১লক্ষ ৫হাজার টাকা। ক্যাশবাক্স থেকে লুঠ হয় ৩ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা। অর্ধেন্দুবাবু বলেন, ‘‘একটি লকারের চাবি আমি দিইনি। সেখানে আরও কিছু টাকা এবং সোনার গয়না ছিল।’’ ঘটনার পর ব্যাঙ্কের বেঙ্গল সার্কেল‌ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার টি শ্রীবাস্তব রাও এ দিন আসেন। তিনি বলেন, ‘‘থানায় অভিযোগ জানিয়েছি।’’