অসুস্থ বৃদ্ধকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল অ্যাম্বুল্যান্সের। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ এ দিক-ও দিক ঘুরেও তা মেলেনি। ফলে কিছু ক্ষণ পরেই মৃত্যু হয় ওই বৃদ্ধের!

কয়েক দিন আগে ঘুসুড়ির টি এল জায়সবাল হাসপাতালের এই ঘটনার পরে প্রশ্ন উঠেছিল, ওই অসুস্থ বৃদ্ধকে নিয়ে যাওয়ার জন্য কি সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সও পাওয়া যায়নি? জানা গিয়েছিল, মা-শিশু ছাড়া কাউকে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনও সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স ওই হাসপাতালে নেই।

কিন্তু প্রশ্ন হল, সত্যিই কি ওই স্টেট জেনারেল হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের জন্য কোনও সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা নেই? উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, বহু পুরনো একটি জিপ মডেলের অ্যাম্বুল্যান্স রয়েছে। তবে সেটি নিজেই ‘মৃতপ্রায়’! আর তার চালকও অবসর নিয়েছেন।

অগত্যা শেষ ছ’মাস ধরে হাসপাতালের পিছনের দিকের একটি গ্যারাজেই ‘বন্দি’ রয়েছে সেই অ্যাম্বুল্যান্স। বর্ষার জলে ডুবে রয়েছে গাড়ির অর্ধাংশ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও ওই গাড়ির ‘নাড়ি’ টিপে বলছেন, ‘বেশি দিন নেই। রাস্তায় বার করার আগেই দেহ রাখবে।’ তাই আর ঝুঁকি নিয়ে চান না জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকেরাও। কারণ, লক্ষাধিক টাকা খরচ করে ওই গাড়ি সারানোর থেকে অন্য গাড়ি একটু ঠিকঠাক করে এনে চালানো যাবে। তাতে খরচও হবে অনেক কম, মেরেকেটে কয়েক হাজার টাকা। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভবানী দাস বলেন, ‘‘এই জেলার এক ব্লক হাসপাতালে একটি পরিত্যক্ত অ্যাম্বুল্যান্স রয়েছে। সেটা সারাই করে জায়সবালে পাঠানো হবে। এক জন চালককেও পাওয়া গিয়েছে। তাঁকেই জায়সবালে পাঠানো হবে।’’ তবে ২৪ ঘণ্টা ওই অ্যাম্বুল্যান্সের 

পরিষেবা মিলবে কি না, তা অবশ্য নির্দিষ্ট ভাবে বলতে পারছেন না জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কেউই। তাঁরা জানাচ্ছেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই চালকই গাড়ি চালাবেন। আর এক জন চালক না মেলা পর্যন্ত রাতে পরিষেবা বন্ধ থাকবে।

অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার এই হাল শুধু ঘুসুড়ির ওই স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নয়। গোটা হাওড়া জেলারই এক সমস্যা। জেলায় ১৪টি ব্লক মিলিয়ে ২৩টি হাসপাতাল রয়েছে। তার মধ্যে জেলা স্তরে ১টি, মহকুমায় ১টি, স্টেট জেনারেল ৬টি, গ্রামীণ হাসপাতাল ১৩টি এবং ব্লক স্তরে ২টি হাসপাতাল রয়েছে। নিয়মানুযায়ী প্রতিটি হাসপাতালেই সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স থাকা প্রয়োজন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে হাওড়া জেলার হাল খুবই খারাপ। কেমন সেই অবস্থা?

জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, ২৩টি হাসপাতালের মধ্যে হাওড়া জেলা, গাববেড়িয়া স্টেট জেনারেল, ঝুমঝুমি গ্রামীণ হাসপাতাল ও উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে একটি করে সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স রয়েছে। তবে চালকের অভাবে সেগুলির পরিষেবা মেলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। সঙ্গে রয়েছে মা ও শিশু প্রকল্পের অ্যাম্বুল্যান্স। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী সেগুলি অবশ্য প্রসূতি মা ও এক বছরের নীচের শিশুদের জন্যই বরাদ্দ।

সমস্যার কথা স্বীকার করে ভবানীদেবী বলেন, ‘‘রোগীদের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য ভাড়ার অ্যাম্বুল্যান্সেও ফ্রি সার্ভিস দেওয়া হয়। তবে কিছু চালক পাওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছি।’’ কিন্তু লিলুয়ার বাসিন্দা, বৃদ্ধ শক্তিপদ সাউকে কি সে দিন জায়সবাল হাসপাতালে থাকা মা ও শিশু প্রকল্পের অ্যাম্বুল্যান্সটি দেওয়া যেত না? হাসপাতালের কর্মীদের একাংশই জানাচ্ছেন, মাসে জরুরি ভিত্তিতে মাত্র ১০-১৫টি কেস নিয়ে অন্য হাসপাতালে যায় ওই অ্যাম্বুল্যান্সটি। এ বিষয়ে অবশ্য কোনও সদুত্তর 

দিতে পারেননি জায়সবালের সুপার সুখেন্দু বি‌শ্বাস।

তবে ফের জায়সবালের ভাগ্যে জুটতে চলেছে ‘তাপ্পি মারা’ একটি অ্যাম্বুল্যান্স। কর্মীদের বক্তব্য, কত দিন তার স্বাস্থ্য ঠিক থাকবে, সেটাই দেখার!