• প্রকাশ পাল
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

রিষড়ার মণ্ডপে জনস্রোত, সামাল দিতে হিমশিম

Rishra
জনসমাগম: রিষড়ার একটি মণ্ডপে ভিড় দর্শনার্থীদের। নিজস্ব চিত্র

জি টি রোড হয়ে দেওয়ানজি স্ট্রিট, পিটি লাহা স্ট্রিট, পঞ্চাননতলা, বাঙ্গুর থেকে স্টেশন রোড। সেখান থেকে আবার সাধনকানন‌, ডক্টর বি আর অম্বেদকর সরণি, মোড়পুকুর, কার্ল মার্ক্স সরণি, দাসপাড়া, সুভাষনগর— ক্রমশই বাড়ছিল কালো মাথার মিছিল!

কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নয়। রাজপথ থেকে অলিগলিতে স্রোতের মতো ছড়িয়ে যাওয়া ভিড়টা আসলে জগদ্ধাত্রী পুজোর মণ্ডপমুখী। রবিবার সন্ধ্যা থেকেই গঙ্গাপাড়ের শহর রিষড়া এ ভাবেই পরিণত হল উৎসবের আঙিনায়। পুজো উদ্যোক্তা থেকে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ অফিসার— সকলেই এক বাক্যে জানাচ্ছেন, গত বেশ কয়েক বছরে এখানে এত জনসমাগম হয়নি। পুলিশকর্মীদের সঙ্গে কোমর বেঁধে ভিড় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে গিয়েছেন পুজো কমিটির সদস্যরাও।

রিষড়া স্টেশনের পূর্ব এবং পশ্চিম পাড় মিলিয়ে শতাধিক পুজো হয়। পূর্ব দিকের পুজো বিভিন্ন এলাকা হয়ে জিটি রোড পর্যন্ত বিস্তৃত। ভিড় সামাল দিতে বিকেল ৪টে থেকে পরের দিন ভোর ৫টা পর্যন্ত জিটি রোডে যান নিয়্ন্ত্রণ করছে পুলিশ। বড় গাড়ি অন্য রাস্তা দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শহরের মধ্যে অটো-টোটো চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন রাস্তায় ‘নো-এন্ট্রি’ করা হচ্ছে। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে।

রাত দশটায় বাঙ্গুর পার্ক তরুণ দলের মণ্ডপের সামনে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। সুষ্ঠু ভাবে দর্শনার্থীদের মণ্ডপে প্রবেশ করাতে একাধিক জায়গায় ব্যারিকেড করতে হচ্ছিল স্বেচ্ছ্বা সেবকদের। পুজো কমিটির কর্তা তথা স্থানীয় কাউন্সিলর ইন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় বলছিলেন, ‘‘দেড় দশক আগে আমাদের এখানে ঘাসের মণ্ডপ হয়েছিল। সে বার মারকাটারি ভিড় হয়েছিল। কিন্তু রবিবারের ভিড় সেটাও ছাপিয়ে গিয়েছে।’’

জিটি রোডের ধারে বাঁশতলায় অনাথ আশ্রম, বিবেকানন্দ স্পোর্টিংয়ের মণ্ডপেও সামনেও তখন অজস্র মানুষ। রাস্তায় দাঁড়িয়ে রিষড়া থানার ওপুলিশ জানাল, সামলানোর জন্য সব ব্যবস্থাই নেওয়া হয়েছে। তবে এত মানুষ আসবেন, কল্পনা করা যায়নি। পাল্লা দিয়ে ভিড় বেড়েছে সারদামাতা ফরওয়ার্ড ক্লাবের মণ্ডপেও। পুরপ্রধান বিজয় মিশ্র জানান, উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহ থেকে বহু মানুষ গঙ্গা পেরিয়ে রিষড়ায় ঠাকুর দেখতে এসেছে‌ন। তাঁদের সৌজন্যে রবিবার লক্ষাধিক টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে।

রেল লাইনের পূর্ব পাড়েও সাধনকানন অঙ্কুর, কোরাস, যুবগোষ্ঠী, আমরা সবাই, নিউ বর্ণালী চক্র-সহ বিভিন্ন মণ্ডপে ভিড় ছিল। নিউ বর্ণালী চক্রে ঠাকুরের পাশাপাশি ছৌ-নাচ মন ভরে দেখেছেন দর্শনার্থীরা। ঠাকুর দেখার ফাঁকে এগরোল-মোগলাই-চাউমিন, ঝালমুড়ি-ভেলপুরি বা বিরিয়ানি-ঠান্ডা পানীয়ে জমিয়ে খাওয়াদাওয়া সেরেছেন তাঁরা।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন