• 1
  • গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

আর গঞ্জ নয়, পুরসভার তকমা চাইছে চণ্ডীতলা

1
পৌলমী রায়, দোলা ঘোষ, শুভ কুমার ও সৌমিতা মুখোপাধ্যায়। ছবি: দীপঙ্কর দে।
  • 1

উন্নয়নের গতিতে পা মেলাতে চাইছে চণ্ডীতলা।
পাশের ডানকুনি আট বছর আগে পেয়েছে পুরসভার মর্যাদা। দেরিতে হলেও ক্রমেই সেখানে পাল্টাতে শুরু করেছে নিকাশি ব্যবস্থা, পথবাতি, পাকা সড়ক, আরও কত কিছু! সেখানকার বাসিন্দারা পাচ্ছেন কেন্দ্র আর রাজ্যের নতুন নতুন প্রকল্পের স্বাদ। উন্নয়নের ভিন্ন পথে যাত্রার সুযোগ থেকে তা হলে চণ্ডীতলাই বা বাদ থাকবে কেন? এই প্রশ্ন তুলছেন বর্ধিষ্ণু এই জনপদের বহু মানুষ। অতীত গরিমাকে মাথায় রেখেই এখন পুরসভায় উন্নীত হওয়ার আওয়াজ তুলতে শুরু করেছে ডানকুনি শিল্পাঞ্চল লাগোয়া এই এলাকা।
শ্রীরামপুর মহকুমার গঞ্জ এলাকা চণ্ডীতলা ব্লক। বহু বিশিষ্ট মানুষ এখান থেকে তাঁদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে গিয়েছেন। গোবর্ধন আশের মতো চিত্রশিল্পী এখানকার বেগমপুরে বাস করতেন। এক সময় সরস্বতী নদী বইত এই জনপদ দিয়ে। সওদাগরদের ডিঙা ভাসত। সেই নদী এখন গতিহারা। পঞ্চায়েতের দৌলতে সময়ের দাবি মেনে এখানে পাকা রাস্তা হয়েছে বেশ কিছু এলাকায়। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে। ধীরে হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগছে। ঝকঝকে দোকানপাট, এটিএম, কিছুটা অন্তর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কেরও দেখা মেলে চণ্ডীতলা বাজার এলাকায়। কিন্তু সেই উন্নয়নেই এখন গতি চায় এই তল্লাট।

এখানকার কুমারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শুভ কুমার পারিবারিক ব্যবসার সূত্রে এলাকার নানা উন্নয়নের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘পেশার সূত্রে সারা দিন শহরে থাকি। কিন্তু রাতে যখন গ্রামে ফিরি মন কেমন লাগে। মনে হয় কেন এখানে রাস্তায় আলো জ্বলবে না? আলোই তো উন্নয়নের দিশা। এলাকার নানা পরিষেবার ক্ষেত্রে উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। পরিকাঠামোগত সার্বিক উন্নয়ন না হলে শুধু দাবি জানিয়ে কিছু হওয়ার নয়। পুরসভার মর্যাদা পেলে ব্লকের সার্বিক পরিকাঠামো অনেকটাই বদলে যাবে।’’

উন্নয়নে গতি আর পরিকল্পনা আনার পক্ষে বাংলার শিক্ষিকা দোলা ঘোষও। তিনি বলেন, “বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার সুবাদে পুরসভার সঙ্গে পঞ্চায়েতের পার্থক্যটা কিছুটা হলেও চোখে লাগে। পুর কর্তৃপক্ষ তাঁর এলাকার সার্বিক উন্নয়নে অনেকটাই বেশি সুযোগ পান। যাঁরা কাজ করেন, তাঁরা যে এগিয়ে যেতে চাইবেন সেটাই স্বাভাবিক। চণ্ডীতলাকে পুরসভায় উন্নীত করা যায় কি না, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে।”

শুধু শুভবাবু বা দোলাদেবীই নন, বদলটা নতুন প্রজন্মের অনেকেই চাইছেন। হাওড়া থেকে বর্ধমান মেন শাখায় রেললাইনের ধার বরাবর ১০টি পুরসভা রয়েছে। কিন্তু কর্ড শাখায় হাওড়া থেকে ডানকুনি হয়ে টানা সে ভাবে আর পুরসভা কোথায়? বিষয়টিকে সাদা চোখে স্রেফ বৈষম্য হিসেবেই দেখছেন অনেকে। যেমন, চণ্ডীতলার পৌলমী রায়। তাঁর নেশা ফোটোগ্রাফি। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের এলাকায় অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। পুর এলাকা হলে পরিকাঠামোগত উন্নতি সম্ভব হবে। ডানকুনি উড়ালপুল হওয়ায় যোগাযোগের অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। পুরসভা হলে পুর কর্তৃপক্ষ হয়তো কিছুটা বাড়তি কর নেবেন। কিন্তু আমরা ভাল পরিষেবাও কিন্তু পাব। কলকাতার এত কাছে থেকেও কেন ‘ভিলেজ পিউপিল’ হয়ে থাকব?’’

সংবাদমাধ্যম আর সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে দেশ-বিদেশের নানা খবরে চঞ্চল হয়ে ওঠে সৌমিতা মুখোপাধ্যায়ের মন। উন্নয়নের গতি ধীরে হলে আদতে পৃথিবী থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া হয়— এমনটাই মত তাঁর। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের এলাকায় পথঘাট, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজের আরও উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। আমরা কেন পিছিয়ে থাকব? পাশের ডানকুনিকে তো দেখছি। পুরসভা হলে এখানে নিকাশির উন্নতি হবে। আমরা পরিস্রুত পানীয় জল পাব। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অনেকটাই এগিয়ে যাবে।’’

এলাকার উন্নয়নের জন্য পুরসভার মর্যাদার জন্য চণ্ডীতলার বাসিন্দাদের দাবি প্রশাসনের কানেও পৌঁছেছে। জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা শ্রম দফতরের পরিষদীয় সচিব তপন দাশগুপ্ত জানান, নির্দিষ্ট প্রস্তাব আছে। কিন্তু কোনও এলাকাকে পুরসভার মর্যাদা দেওয়া যায় কি না, তার কিছু বাধ্যবাধকতা থাকে। সে নিয়ে আলোচনা চলছেই। আশায় রয়েছে চণ্ডীতলা।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন