শারদ উৎসব শুরু হয়ে গেল। কিন্তু তারকেশ্বর পুরসভার কর্মীরা এ বার পুরো বোনাস পেলেন না। অবসরপ্রাপ্ত পুরকর্মীরাও পেলেন না চলতি মাসের পেনশনের টাকা। এই পরিস্থিতিতে ফের পুরসভার আর্থিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শাসকদলের কাউন্সিলরদের একাংশও এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

পুরপ্রধান স্বপন সামন্ত অবশ্য বলেন, ‘‘কোথাও কোনও সমস্যা নেই। কর্মীরা বোনাস তো পেয়েছেন। বকেয়া পেনশনের টাকাও মিলবে।’’ কিন্তু কবে? আর কেনই বা অর্ধেক বোনাস? দুই প্রশ্নেরই উত্তর মেলেনি স্বপনবাবুর কাছ থেকে।

পুরসভা সূত্রের খবর, সেখানে অন্তত সাড়ে ৩০০ কর্মী রয়েছেন। পুরসভার আর্থিক বেহাল দশা দেখে তাঁরা আগে থেকেই প্রমাদ গুনছিলেন। পুরো বোনাস না-পাওয়ায় তাঁরা অথৈ জলে পড়লেন। বাড়ল ক্ষোভ। অন্য দিকে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন প্রাথমিক ভাবে দু’মাসের বকেয়া হয়েছিল। তা নিয়ে পেনশনভোগীরা রীতিমত ক্ষুব্ধ ছিলেন। উৎসবের মরসুমে পেনশন না-মেলায় তাঁরাও সমস্যায় পড়লেন।

বেশ কয়েক মাস আগে বিদ্যুৎ বিল জমা না-পড়ায় পুরসভার বিদ্যুতের লাইন কেটে দেয় রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা। ফলে, সে সময় পুরসভার পাম্প পর্যন্ত চালানো যায়নি। পানীয় জল না পেয়ে রীতিমতো সমস্যার পড়েন শহরের বাসিন্দারা। পরে অবশ্য সেই সংযোগ জুড়ে দেওয়া হয়। রাজ্য সরকারের অভ্যন্তরীণ অডিটেও পুর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি অভিযোগ উঠেছিল। একখাতের টাকা অন্যখাতে খরচের অভিযোগ ওঠায় দল সাংগঠনিক ভাবে ব্যবস্থা নেয়। গড়া হয় নজরদারি কমিটি। কিন্তু তারপরেও উৎসবের মরসুমে কর্মীরা পুরো বেতন পেলেন না। অবসরপ্রাপ্তেরা পেলেন না পেনশন। 

পুরসভার এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মী বলেন, ‘‘মাঝেমধ্যেই পেনশন এখন আটকে যাচ্ছে। এই বয়সে ওষুধ কিনতে অনেক টাকা লাগে। এতদিন চাকরি করে, অর্জিত পেনশন না পেলে সেটা দুঃখের।’’ পুরসভার এক কাউন্সিলর বলেন, ‘‘আমরা সরকার এবং দলকে বলেছি। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা হয়নি। পুরসভা কার্যত দেউলিয়া। এ মাসে কোনওক্রমে বেতন হয়েছে।’’