• logo
  • গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

নতুন মুখ আর স্বচ্ছ ভাবমূর্তির খোঁজে বাদ গেলেন অনেকেই

  • logo

দলের প্রার্থী তালিকায় নতুন মুখ এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে গুরুত্ব দিতে এ বার পুর নির্বাচনে হুগলির বেশ কয়েকটি পুরসভায় গুরুত্বপূর্ণ রদবদল করেছেন তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব।

গঙ্গাপাড়ের উত্তরপাড়া ও বাঁশবেড়িয়া পুরসভা এবং তারকেশ্বর ও আরামবাগের মতো গ্রামীণ পুরসভার ক্ষেত্রেও একই চিত্র ধরা পড়েছে। এই অবস্থায় আগামী দিনে প্রার্থী তালিকা নিয়ে দলের অন্দরে ক্ষোভ-বিক্ষোভ কী ভাবে সামাল দেয় নেতৃত্ব সেটাই এখন দেখার।

উত্তরপাড়া পুরসভার বর্ষীয়ান কাউন্সিলার দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা পিনাকী ধামালি এ বার প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। দু’বারের চেয়ারম্যান এবং গত পুরবোর্ডের ভাইস-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলেছেন পিনাকীবাবু। গত দু’দশক ধরে তিনি পুরসভার কাউন্সিলার। বাম আমলেও নিজের এলাকা থেকে জিতে কাউন্সিলার হয়েছিলেন পিনাকীবাবু। কিন্তু এ বার পুরভোটে টিকিট না পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উত্তরপাড়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে আলোড়ন শুরু হয়েছে। একই ছবি তারকেশ্বরেও। তারকেশ্বর পুরসভার ভাইস-চেয়ারম্যান উত্তম কুণ্ডুও এ বার টিকিট পাননি। দলের ডাকাবুকো এই তরুণ নেতা টিকিট না পাওয়ায়,  স্বাভাবিকভাবেই তার পিছনের কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বাঁশবেড়িয়ায় নতুন এক মহিলা প্রার্থীর জন্য তদ্বির করছিলেন স্থানীয় নেতৃত্ব। এমনকী তাঁকে নতুন পুরবোর্ডের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান হিসেবেও ঘোষণা করে দলের একাংশ। যদিও ওই উদ্যোগে জল ঢেলে দিয়েছে দলীয় নেতৃত্ব।

তৃণমূল সূত্রের খবর, দলের যে সব গুরুত্বপূর্ণ নেতার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে বা দলের স্থানীয় কর্মীদের তরফে দলকে লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে দল। রাজ্যে পালাবদলের পরই উত্তমবাবু তারকেশ্বর থানার মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। পুলিশকে সেই সময় মারধরের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় তাঁকে কারাবাসও করতে হয় দীর্ঘদিন। শুধু পুলিশকে মারধরই নয়, তারকেশ্বর বাসস্ট্যান্ডে দশতলা একটি নির্মাণের ক্ষেত্রেও সম্প্রতি তাঁর নাম জড়ায়। রাজ্য নেতৃত্বের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগও যায়। কিন্তু সে সব ঘটনা যে শেষ পর্যন্ত পুর নির্বাচনে তাঁর টিকিট পাওয়ার পথে বাধা হবে সেটা সম্ভবত আঁচ করতে পারেননি উত্তমবাবু নিজেও।

উত্তরপাড়া পুরসভায় ঘড়িবাড়ি মাঠ হস্তান্তর নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবাদ আন্দোলনে পুরসভার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কেননা, ইদানীং উত্তরপাড়া পুর এলাকায় প্রোমোটারদের রমারমা মারাত্মক আকার নিয়েছে। আর এ সবই পুরভোটে টিকিট পাওয়া বা না পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটাই ছাপ ফেলেছে বলে তৃণমূল সূত্রের খবর। দলীয় কর্মীদের বক্তব্য, টিকিট দেওয়ার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থীদেরই গুরুত্ব দিতে চাওয়ায় অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীই এ বার বাদ পড়েছেন। পিনাকীবাবু এবং উত্তমবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। বার বার চেষ্টা করা হলেও পিনাকীবাবুর মোবাইল বন্ধ ছিল। উত্তমবাবু ফোনই ধরেননি। কথা বলতে চেয়ে এসএমএস পাঠানো হলেও জবাব দেননি।

বৈদ্যবাটি পুরসভায় পছন্দের ওয়ার্ড না পেয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতা ও প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান প্রবীর পাল নির্দল হিসেবে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২১ নম্বর ওয়ার্ডে পুরপ্রধান অজয়প্রতাপ সিংহের বিরুদ্ধে তিনি লড়বেন। এ নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে শোরগোল পড়েছে। প্রবীরবাবু ৪ বারের কাউন্সিলর। এ বার তাঁর ওয়ার্ডটি সংরক্ষিত হয়ে যায়। প্রবীরবাবু বলেন, “নিজের পছন্দের একাধিক ওয়ার্ডের কথা দলকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু যে দু’টি ওয়ার্ডের একটি আমাকে বেছে নিতে বলা হয়, তাতে জেতা সম্ভব নয়। দল আমার কথা ভাবল না বলেই, নির্দল হিসেবে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই।” এ ব্যাপারে অজয়বাবুর বক্তব্য, “দল ওঁকে যথাযথ মর্যাদা দিয়েই দাঁড়াতে বলেছিল। কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, উনিই বলতে পারবেন।”

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন