• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

জামাইবাবুর প্রস্তাব নাকচ করে অন্যত্র বিয়ের ব্যবস্থা

অ্যাসিডে আক্রান্ত শ্যালিকা

Spot
দুষ্কর্ম: পলিথিন কেটে এখান দিয়েই ছোড়া হয়েছে অ্যাসিড।

শ্যালিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন জামাইবাবু। রাজি হননি শ্যালিকা। কাল, সোমবার অন্যত্র তাঁর বিয়ে ঠিক হয়েছিল। তার আগে তাঁর উপরে অ্যাসিড হানার অভিযোগ উঠল জামাইবাবুর বিরুদ্ধে।

শুক্রবার গভীর রাতে উলুবেড়িয়ার পূর্ব খলিসানি পাড়ার বাসিন্দা, রেহানা মল্লিক নামে বছর কুড়ির ওই তরুণী নিজের ঘরেই আক্রান্ত হন। তাঁর মুখের একাংশ ও পিঠের দিক পুড়ে যায়। টালির চালের একচিলতে ঘরে তিনি ঘুমোচ্ছিলেন। পলিথিনের দেওয়াল কেটে জামাইবাবু শেখ সরিফুল মাল অ্যাসিড ছোড়ে বলে অভিযোগ। তবে, শনিবার বিকেল পর্যন্ত পুলিশ অভিযুক্তকে ধরতে পারেনি। রেহানাকে উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

খোলা বাজারে অ্যাসিড বিক্রি নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও পেশায় জরিশিল্পী সরিফুল কী করে অ্যাসিড পেলেন, সে প্রশ্ন উঠেছে। ‘সেভ ডেমোক্রেসি’র রাজ্য সম্পাদক চঞ্চল চক্রবর্তী বলেন, ‘‘এ রাজ্যে এখনও অনেক দোকানে অ্যাসিড মিলছে। ফলে, অ্যাসিড আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে।’’ হাওড়া (গ্রামীণ) জেলার পুলিশ সুপার গৌরব শর্মা জানান, অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে। সে কোথা থেকে অ্যাসিড পেল, তা-ও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ওই পুলিশকর্তার দাবি, ‘‘আমরা নিয়মিত দোকানে অভিযান চালাই। তার পরেও খোলা বাজারে লুকিয়ে অ্যাসিড বিক্রি হচ্ছে কিনা, তা দেখা হচ্ছে।’’ সরিফুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন রেহানা। তিনি বলেন, ‘‘আমি ওকে বিয়ে করতে চাইনি। সে জন্য ও যে এমন করবে, ভাবিনি।’’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসিয়ার তিন মেয়ে, দুই ছেলে। তাঁর স্বামী মারা গিয়েছেন। ছেলেরা বিয়ে করে অন্যত্র থাকেন। রেহানা মেজো মেয়ে। ন’বছর আগে বড় মেয়ে রুকিয়ার সঙ্গে পাশের পাড়ার বাসিন্দা সরিফুলের বিয়ে হয়। দম্পতির তিনটি সন্তান। রুকিয়া স্বামী-সন্তানদের নিয়ে কয়েক বছর আগে থেকে মায়ের কাছেই থাকা শুরু করেন। গত বছরের মাঝামাঝি থেকে রেহানাকেও বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করে সরিফুল। এ জন্য সে রেহানাকে বিরক্তও করত বলে অভিযোগ। রেহানা মা-দিদিকে সে কথা জানান। মাসচারেক আগে সরিফুলকে অন্যত্র থাকতে বলেন হাসিয়া। সরিফুল নিজের বাড়িতে ফিরে যান। রুকিয়া অবশ্য সন্তানদের নিয়ে মায়ের কাছেই থেকে যান।

পুড়েছে মেঝেতে পাতা বিছানাও। নিজস্ব চিত্র

কাল, সোমবার শ্যামপুরে রেহানার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। এ কথা জানতে পেরে সরিফুল রেহানাকে ফোনে হুমকি দিচ্ছিল বলে অভিযোগ। শুক্রবার রাতে একটি ঘরে রেহানার দিদি তাঁর তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে ঘুমোচ্ছিলেন। অন্য ঘরে ছিলেন রেহানা, তাঁর মা ও বোন রেশমা। সকেল কিছুটা তফাতে মেঝেতই শুয়েছিলেন। সেই সময় সরিফুল হামলা চালায় বলে অভিযোগ।

অ্যাসিডের জ্বালায় রেহানা চিৎকার করে ওঠেন। পড়শিরা চলে এলেও সরিফুলকে ধরতে পারেননি। শনিবার ওই ঘরে গিয়ে দেখা যায়, বিছানা পুড়ে গিয়েছে। ঝলসে গিয়েছে একটি মোবাইলও। পড়ে থাকা অ্যাসিডের টিনের পাত্রটি উদ্ধার করে পুলিশ। হাসিয়া বলেন, ‘‘সরিফুলকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম। তবু আমার মেয়েটাকে ও ছাড়ল না। রেহানার চিৎকারে আমরা উঠে পড়তেই ও পালাল।’’ স্বামীর শাস্তি দাবি করেছেন রুকিয়া।  

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন