• নুরুল আবসার
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

খন্দপথে যেতে ভয় বিধায়কেরও

বর্ষা এলেই রাস্তা ভাঙে, এ অভিজ্ঞতা প্রতি বছরের। তাপ্পি মারার কাজও চলে। কোথাও কোথাও পূর্ণাঙ্গ সংস্কারও হয়। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই ফের পিচ উঠে বেরিয়ে পড়ে খানাখন্দ। বাড়ে দুর্ভোগ। দুই জেলার গুরুত্বপূর্ণ কিছু রাস্তার হাল-হকিকত আনন্দবাজারে।

bad road
বেহাল: বাগনান-মানকুর রোডের হাল এমনই। —নিজস্ব চিত্র

রাস্তা তো নয়, যেন খাল! পিচ উঠে গিয়ে গর্ত তৈরি হয়েছে বাগনান থেকে মানকুর (১৩ কিলোমিটার) পর্যন্ত বিস্তৃত রাস্তায়। সেই গর্ত এতই বড় যে বৃষ্টির জল জমে ছোট ছোট খালের চেহারা নিয়েছে। যে কোনও মুহূর্তে দূর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে নিত্যযাত্রীদের আশঙ্কা।

এটি বাগনানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। দেউলগ্রাম গ্যারাজ থেকে একটি অংশ চলে গিয়েছে মানকুর পর্যন্ত। অন্য অংশ কুলিয়াঘাট পর্যন্ত। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন বাগনান-কুলিয়া, বাগনান-বাকসি, বাগনান-মানকুর, বাগনান-কল্যাণপুর রুটের অসংখ্য অটো, ছোট গাড়ি এবং বাগনান-জয়পুর রুটের বেসরকারি বাস চলে। বেহাল রাস্তার জন্য তাঁদের প্রাণ হাতে করে যাতায়াত করতে হয় বলে নিত্যযাত্রীরা জানান।

রাস্তার অনেকটা অংশ পড়ে আমতা বিধানসভা কেন্দ্রে। বিধায়ক কংগ্রেসের অসিত মিত্র বলেন, ‘‘এখানকার বহু মানুষ এই রাস্তা নিয়ে ক্ষুব্ধ। আমি নিজেও এই রাস্তা দিয়ে বিধানসভা এবং বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করি। বেহাল রাস্তার জন্য গাড়িতে যেতে বেশ ভয় লাগে। পূর্ত (সড়ক) দফতরের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছি। তারা দ্রুত মেরামতির আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু কবে কাজ শুরু হবে বুঝতে পারছি না। বর্ষা নেমে যাওয়ায় রাস্তার হাল আরও খারাপ হয়েছে।’’ জেলা (গ্রামীণ) যুব তৃণমূল সভাপতি সুকান্ত পাল বলেন, ‘‘দিদিকে বলো কর্মসূচিতে নিত্যযাত্রীরা রাস্তাটি মেরামতির দাবি জানিয়েছিলেন। অনেকে আমাদের কাছেও একই দাবি করেছিলেন। পূর্ত (সড়ক) দফতর জানিয়েছে, রাস্তার কাজ শীঘ্রই শুরু হবে।’’

রাস্তাটি পূর্ত (সড়ক) দফতরের হাওড়া ডিভিশনের অধীন। এই ডিভিশনের এক কর্তা জানান, রাস্তাটি মেরামতের জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। মাসখানেকের মধ্যে টেন্ডার করা হবে।

ওই রাস্তা ধরে হাওড়া, হুগলি এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের মানুষ যাতায়াত করেন। হুগলির বিভিন্ন এলাকার মানুষ জয়পুরের বাস ধরে বাগনানে এসে ট্রেন ধরেন। এখন ট্রেন বন্ধ থাকায় তাঁরা বাগনানে এসে মুম্বই রোডে দূরপাল্লার বাস ধরছেন। অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের গোপীগঞ্জ থেকে বহু মানুষ ভুটভুটিতে রূপনারায়ণ এবং মুণ্ডেশ্বরী পার হয়ে মানকুর ঘাট ও কুলিয়াঘাটে এসে সেখান থেকে ছোট গাড়ি ধরে বাগনানে আসেন। অসংখ্য মোটরবাইকও চলে ওই রাস্তায়।

যাত্রীরা সকলেই ঝুঁকিহীন যাত্রার আশায় দিন গুনছেন।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন