‘কাটমানি’ ফেরত চেয়ে চন্দননগরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর তথা ১ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সন সুপর্ণা মণ্ডলের নামে এলাকায় ফ্লেক্স পড়েছে। এর বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা না-নিলে আন্দোলনের হুমকি দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘পোস্ট’ করেছেন তিনি। 

সুপর্ণাদেবী থাকেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিচুপট্টিতে। গত শুক্রবার দেখা যায়, ওয়ার্ডের বিভিন্ন জায়গায় তাঁর নামে ফ্লেক্স টাঙানো। ফ্লেক্সে তাঁকে ‘ধিক্কার’ জানিয়ে ‘কাটমানি’ ফেরতের দাবি জানানো হয়। তবে কে বা কারা ওই ফ্লেক্স লাগিয়েছে তা জানা যায়নি। কারণ, ‘প্রচারক’-এর কোনও নাম তাতে ছিল না। ফ্লেক্স পড়ার পর থেকে এলাকায় গুঞ্জন‌ শুরু হয়।

বিষয়টি নিয়ে পরের দিনই চন্দননগর থানায় লিখিত অভিযোগ জানান সুপর্ণাদেবী। তাঁর অভিযোগ, ওই ফ্লেক্সের কারণে তাঁর সামাজিক সম্মান এবং মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত জীবনেও প্রভাব পড়েছে। তিনি মর্মাহত। পুলিশ যেন তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। রবিবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সুপর্ণাদেবী লিখেছেন, ‘‘চন্দননগরের পুলিশ কমিশনারের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তদন্ত করে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করা হোক। অন্যথায় আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।’’

সুপর্ণাদেবী বলেন, ‘‘এটা চক্রান্ত। আমার ধারণা, বিজেপির লোকেরাই এটা করেছে। বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমে দেখলাম, জনগণ কিছু বলেনি। বিজেপির লোকেরা আমার বিরুদ্ধে বলেছে। কেউ টাকা পেলে তো আমাকে বলবে, থানায় যাবে। নাম না-করে ফ্লেক্স টাঙাবে কেন? আসলে আমার জনপ্রিয়তা বিজেপির গাত্রদাহের কারণ। তাই এই অপপ্রচার। পুলিশ তদন্ত করুক। দোষী প্রমাণিত যে কোনও শাস্তি মাথা পেতে নেব।’’

তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে চন্দননগর পুরসভার বোর্ড রাজ্য সরকার বেশ কয়েক মাস আগে ভেঙে দেয়। ফলে, সুপর্ণাদেবী প্রাক্তন কাউন্সিলর হয়ে যান। যদিও পুলিশে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে তিনি নিজেকে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি বলেই উল্লেখ করেছেন। লোকসভা ভোটে এই ওয়ার্ডে বিজেপি এগিয়ে গিয়েছে তৃণমূলকে পিছনে ফেলে। বিজেপির ওবিসি মোর্চার রাজ্য সভাপতি স্বপন পালের দাবি, ‘‘ওই ফ্লেক্স টাঙানোয় বিজেপির কোনও যোগ নেই। তবে এক জন কেন, আমরা চাই সব তৃণমূ‌ল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধেই তদন্ত হোক। তা হলে অনেকেরই ঘুম উবে যাবে।’’