‘তোমরা শান্তিতে থাক। আর জ্বালাতে আসব না’। মৃতদেহের কাছ থেকে এমনই একটি চিরকুট পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশের দাবি।

হলদিয়ার সুতাহাটা ব্লকের হরিণভাষা গ্রামে শনিবার সন্ধ্যায় এক কলেজ ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় তার শোয়ার ঘর থেকে। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন। মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মৌমিতা সিংহ (১৮) নামে ওই ছাত্রী স্থানীয় রামপুর বিবেকানন্দ মিশন কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ত। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ মৌমিতা কলেজ থেকে বাড়ি ফিরে আসে। তাকে খেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু মৌমিতা জানিয়েছিল, সে কলেজে মুড়ি আর ঘুগনি খেয়ে এসেছে। তাই পরে খাব। এরপর বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামলে মেয়ের কোনও সাড়া না পেয়ে মৌমিতার মা ঘুম থেকে উঠে মেয়েকে খাওয়ার জন্য ডাকতে যান। কিন্তু বার কয়েক ডাকার পরেও কোনও সাড়া না পেয়ে তিনি মৌমিতার বাবাকে ডাকেন। তিনি এসে ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হওয়ায় দরজা ভাঙা হয়। দরজা ভেঙে দেখা যায়  চুড়িদারের ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝলছে মৌমিতা।

বাবা-মায়ের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে জড়ো হয়। খবর দেওয়া হয় সুতাহাটা থানায়। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে। মৌমিতা যে ঘরে শুয়েছিল সেখান থেকে একটি সাদা চিরকুট উদ্ধার হয়েছে। তাতে ‘তোমরা শান্তিতে থাক, আর জ্বালাব না’ লেখা ছিল বলে পুলিশের দাবি। পুলিশকে মৌমিতার বাবা জানিয়েছেন, বেশ কিছু দিন ধরে একটি ছেলের সঙ্গে প্রেম করছিল তাঁর মেয়ে। ছেলেটি আলাদা একটি কলেজে পড়ে বলে মেয়ে তাঁদের জানিয়েছিল। তবে সেই সম্পর্ক নিয়ে তাঁদের পরিবারে কোনও অশান্তি ছিল না। মৌমিতা ওই দিন যে ব্যাগ নিয়ে কলেজে গিয়েছিল তা থেকে একটি সিঁদুর কৌটো পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশের দাবি।

তবে, কি মৌমিতা প্রেমিকের কাছ থেকে ‘প্রত্যাখ্যাত’ হয়েছিল? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে পরিচিতদের মধ্যে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, প্রেমঘটিত কোনও ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছিল মৌমিতা। সেই কারণেই সম্ভবত গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে সে।

আরও পড়ুন: বানভাসি কেরলে জ্বরে মৃত্যু যুবকের

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কুন্তল লুরকি নামে এক ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রের সঙ্গে প্রেম ছিল মৌমিতার। দু’জনের সম্পর্ক নিয়ে টানাপড়েন চলছিল। রবিবার রাতে কুন্তলের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ এনেছে মৌমিতার পরিবার। সেইমত মামলা রুজু করে তদম্ত শুরু করেছে পুলিশ ।

হলদিয়ার এসডিপিও তন্ময় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ময়না তদন্তের রিপোর্টের পাশাপাশি মৌমিতার সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।’’