দু’দিকে বাড়ি, বিদ্যুতের খুঁটি। তারই মাঝে গ্রামের রাস্তা ধরে হেলেদুলে চলেছে সে। পিছনে হৈ হৈ করে ছুটছেন বাসিন্দারা। পিছু নিয়েছে একটি কুকুরও। হাতিটির অবশ্য সে সবে ভ্রূক্ষেপ নেই। ধীর পায়ে শুঁড় দুলিয়ে এগিয়ে চলেছে সে। 

শুক্রবার সাতসকালে গ্রামের মধ্যে হাতি দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন নয়াগ্রামের খড়িকামাথানির বাসিন্দারা। জঙ্গল লাগোয়া এলাকা হওয়ায় রাত-বিরেতে গ্রামে হাতি ঢুকে পড়ার ঘটনা হামেশাই ঘটে। কিন্তু সকালবেলা ব্যস্ত বাজার এলাকায় হাতি ঢুকে পড়ায় দৃশ্য এখানেও অচেনা। বন দফতর ও স্থানীয় সূত্রে খবর, ওড়িশার দিক থেকে হাতিটি নয়াগ্রামের কুশটিকরা ও কুঁকড়াশোল হয়ে খড়িকামাথানি বাজারে ঢুকে পড়ে। তখন সকাল ৮ টা। হাতি দেখে হকচকিয়ে যান জীবন পাত্র, পূর্ণচন্দ্র গিরিরা। জীবনবাবু বলেন, ‘‘সকালে বাজার করতে এসে দেখি লোকজন ছুটোছুটি করছে। আর রাস্তা জুড়ে হাঁটছে একটি স্ত্রী হাতি। বাজার করব কী, হাতি দেখে ছুট লাগাই।’’ ওই হস্তিনী এ দিন গ্রামের মোরাম রাস্তা ছেড়ে খড়িকাবাজার শিব মন্দিরের কাছে খড়িকা-নয়াগ্রাম ৯ নম্বর রাজ্য সড়কে ওঠে। তার জেরে কিছুক্ষণ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে তাড়া খেয়ে হাতিটি নয়াগ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির অতিথিশালার পাশ দিয়ে খড়িকার শালজঙ্গলে ঢুকে পড়ে। তার তাকে দেখা যায়নি। নয়াগ্রামের ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার শিবরাম রক্ষিত বলেন, ‘‘কোনও অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেনি। হাতিটিকে নয়াগ্রাম রেঞ্জের জঙ্গলে ঢুকে পড়েছে। তাকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’’

হাতির লোকালয়ে ঢুকে পড়া ও হাতি-মানুষের সংঘাত বাড়তে থাকায় জঙ্গলমহল জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। উদ্বেগে বন দফতরও। নয়াগ্রাম ব্লকের চাঁদাবিলা রেঞ্জে এখন দলমার পালের ৯টি হাতি রয়েছে। এ ছাড়া নয়াগ্রাম রেঞ্জে রয়েছে চারটি রেসিডেন্ট হাতিও। গত রবিবার ভোরে বাড়ির উঠোন ঝাঁট দেওয়ার সময় নয়াগ্রামের শিরিষবনি গ্রামের গৌরী মাণ্ডি নামে এক বৃদ্ধা দলমার পালের হাতির হামলায় প্রাণ হারান। বৃহস্পতিবার সকালে আবার নয়াগ্রাম থানার পাঁচকাহানিয়া বিটের রাঙ্গিয়াম গ্রাম লাগোয়া খাসজঙ্গলের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় একটি রেসিডেন্ট হাতির হানায় প্রাণ হারান মোহন বিন্ধ্যানী নামে এক বৃদ্ধ।