দোকানের সামনে গাড়ি রাখা ঘিরে বচসা। যা গড়াল হাতাহাতি এবং পথ অবরোধে। সব মিলিয়ে মঙ্গলবার সকালে উত্তেজনা ছড়াল এগরা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায়।  ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রের খবর, এ দিন সকাল ৯টা নাগাদ এগরা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের সামনে একটি তেলেভাজা দোকানের সামনে এক ব্যক্তি তাঁর গাড়ি রাখাছিলেন। দোকানের সামনে গাড়ি রাখায় তাতে বাধা দেন ওই দোকানের মালিক সুশোভন সিংহ। তাঁর অভিযোগ, বেআইনি ভাবে দোকানের সামানে গাড়ি রাখা হচ্ছে দেখে তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন। আর তাতেই ওই গাড়ির চালক গালি দেয় এবং দোকানের মধ্যে ঢুকে রড দিয়ে তাঁকে মারধর করে।  

সুশোভনকে মারধর করা হচ্ছে দেখে তাঁর মা এবং ভাই সুমন বাঁচাতে আসেন। অভিযোগ, শেখ জুবেদ নামে ওই চালক তাঁদের উপরও হামলা করে। মারধরের ঘটনা দেখে এলাকার লোকেরা দোকানে গিয়ে চালককে ধরে ফেলে এবং গণধোলাই দেন। কোনও ভাবে সেখান থেকে পালিয়ে ওই চালক দৌড়ে পাশের একটি ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে ঢুকে পড়ে। খবর পেয়ে এগরা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্ত চালককে ক্ষিপ্ত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

অবিলম্বে ওই চালককে গ্রেফতার এবং উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে হাসপাতাল রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং বাসিন্দারা। ঘণ্টাখানেক চলে অবরোধ। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পথ অবরোধের জেরে গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। তবে স্থানীয়েরা জানাচ্ছেন, অবরোধ চলাকালীন  অ্যাম্বুল্যান্সের মতো জরুরি পরিষেবা রাস্তাতে স্বাভাবিক ছিল। অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য রাস্তা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। 

এগরা থানার পুলিশ এসে ১০টার পরে অবরোধ তুলে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে অভিযুক্ত গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে আক্রান্ত সুশোভন এগরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সুশোভন বলেন, ‘‘দোকানের সামনে গাড়ি রাখতে বারণ করতেই চালক উত্তেজিত হয়ে গালি দেয়। দোকানে ঢুকে লোহার রড দিয়ে মারধরও শুরু করে। আমাকে বাঁচাতে এলে মা এবং ভাইকেও মারে ও।’’

অভিযোগ পেয়ে পুলিশ দুপুরে গাড়ির চালক জুবেদ এবং তার সঙ্গী শেখ শহিদকে গ্রেফতার করে। তাদের গাড়িটিও আটক করা হয়েছে। এগরা থানার পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ির চালক-সহ দু’জনকে গ্রেফতার করে তদন্ত শুরু হয়েছে।