কাঁথি আদালত থেকে বোমা ও গুলি ছুড়তে ছুড়তে কর্ণ ও মুন্নাবাহিনীর পালিয়ে যাওয়া কাণ্ডের তদন্ত করবে সিআইডি। জেলা পুলিশকে তা জানিয়েও দিয়েছে সিআইডি।

সোমবার ফের কর্ণকে কাঁথি আদালতে তোলা হয়। পশ্চিম মেদিনীপুরের সংশোধনাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মাধ্যমে এ দিন কর্ণকে কাঁথি  আদালতে আনা হয়। এ জন্য বাড়ানো হয়েছিল আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মহালয়া উপলক্ষে এদিন কাঁথি আদালত চত্বর ছিল ফাঁকা। কর্ণকে নিয়ে আসার অনেক আগে থেকেই আদালত চত্বরে কমব্যাট ফোর্স, র‌্যাফ, বোম স্কোয়াড ও বিরাট পুলিশ বাহিনী পৌঁছে গিয়েছিল। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইন্দ্রজিৎ বসু ও কাঁথি মহকুমা পুলিশ আধিকারিক পার্থ ঘোষ নিরাপত্তার বিষয়টি  দেখভাল করেন। ছুটির দিন হওয়ায় আদালত চত্বরে কাউকে নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে ঢুকতে দেওয়া হয় নি।

গত ৪ অক্টোবর এই আদালত চত্বরেই বোমা ফাটিয়ে, গুলি চালিয়ে ও লঙ্কার গুঁড়ো ব্যবহার করে কর্ণ ও মুন্নারা পুলিশকে জখম করে পালিয়েছিল। যদিও সেই দিনই পুলিশের হাতে কর্ণ ধরা পড়ে। ওই ঘটনায় তদন্তের জন্য কর্ণকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানিয়েছিল পুলিশ। বিচারক কর্ণকে ১০ দিন পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

এদিন কাঁথি আদালত থেকে দুপুর দেড়টা নাগাদ কর্ণকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায় পুলিশ। কিন্তু তাকে কোথায় বা কোন থানায় রাখা হবে সেই তথ্য নিরাপত্তার খাতিরে গোপন রাখে পুলিশ। এদিকে পলাতক মুন্না ও সুরজিতের এখনও কোনও হদিস নেই। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, ওই দু’জনকে ধরার জন্য জোর তল্লাশি চলছে। 

সেদিনের ঘটনার পরিকল্পনা কোথায় হয়েছিল?  কর্ণ, মুন্নাদের কারা পালাতে সাহায্য করেছিল? কী ভাবে সাহায্যকারীদের সঙ্গে কর্ণ ও মুন্নাদের যোগাযোগ হল? বোমা, বন্ধুক কোথায় ছিল? পালিয়ে কোথায় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল কর্ণ মুন্নাদের এমন সব  প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই   মামলার তদন্তে ভার সিআইডির হাতে যাচ্ছে বলে জেলা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। তাই এখন কর্ণ কোথায় থাকবে, কী ভাবে তদন্ত এগোবে, সে সব বিষয়ে সিআইডিই সিদ্ধান্ত নেবে বলে জেলা পুলিশ জানিয়েছে।