• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বৃদ্ধার করোনা নয়, প্রাপ্তি অ্যাম্বুল্যান্সও

Ambulance
দেওয়া হচ্ছে অ্যাম্বুল্যান্স।

অ্যাম্বুল্যান্স মেলেনি। তাই করোনা উপসর্গযুক্ত মাকে নিজের শরীরের সঙ্গে বেঁধে ২০ কিলোমিটার মোটরবাইক চালিয়ে হাসপাতালে এনে ভর্তি করেছিলেন ছেলে। পাঁশকুড়া সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল সূত্রে খবর শুক্রবার রাতে ভর্তি হওয়া ওই বৃদ্ধা বর্তমানে ভাল আছেন। গত বৃহস্পতিবার লালা রসের নমুনা নেওয়া হলেও বৃদ্ধা ও তাঁর পরিবারের বাকিদের করোনা পরীক্ষা রিপোর্ট এখনও আসেনি। পাঁশকুড়া সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সোমবার ফের বৃদ্ধা ও তাঁর ছেলের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষায় পাঠালে রিপোর্টে দু’জনেরই করোনা নেগেটিভ বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।

পাঁশকুড়া সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের সুপার শচীন্দ্রনাথ রজক বলেন, ‘‘ওই বৃদ্ধা ও তাঁর ছেলেকে পাঁশকুড়া সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। দু’জনেরই করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ।দু’জনেই ভাল আছেন।’’ তবে, অ্যাম্বুল্যান্সের অভাবে বৃদ্ধা মাকে নিয়ে ছেলে যে ভাবে হাসপাতালে পৌঁছেছেন সেই ঘটনা সমাজ মাধ্যমে প্রচারের জেরে সোমবার কোলাঘাট ব্লক প্রশাসনকে একটি অ্যাম্বুল্যান্স দেওয়ার কথা জানিয়েছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।

কোলা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা ওই বৃদ্ধার বড় ছেলে ও বৌমা করোনা আক্রান্ত হয়ে গত মঙ্গলবার ভর্তি হন মেচগ্রামের বড়মা হাসপাতালে। শুক্রবার বৃদ্ধার শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দেয়। ছোট ছেলে এ দিন বলেন, ‘‘সেদিন জ্বর ছাড়াও মায়ের খুব শ্বাসকষ্ট ছিল। রোদের মধ্যে বাইকে করে হাসপাতালে আনার পর মায়ের শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়। তবে মা এখন ভাল আছেন।’’

এ দিকে অ্যাম্বুল্যান্স না পাওয়ার ঘটনায় কোলাঘাট ব্লক প্রশাসনের বিরুদ্ধে সমাজ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে। কোলাঘাটের একটি স্বেছাসেবী সংস্থা তাদের একটি অ্যাম্বুল্যান্স ব্লক প্রশাসনকে দিতে চেয়ে আবেদন জানিয়েছে। সংস্থার পক্ষে অসীম দাস বলেন, ‘‘অ্যাম্বুল্যান্সের অভাবে কোনও রোগী কষ্ট পান এটা কখনওই হতে পারে না। কোলাঘাট ব্লক প্রশাসন চাইলে আমাদের সংস্থার অ্যাম্বুল্যান্সটি করোনা পরিস্থিতিতে কাজে লাগাতে পারে। তবে চালকের ব্যবস্থা করতে হবে প্রশাসনকেই।’’

উল্লেখ্য গত ১৪ জুন মেচগ্রামে পথ দুর্ঘটনায় কোলাঘাট ব্লকের একমাত্র করোনা অ্যাম্বুল্যান্স চালকের মৃত্যু হয়। ভেঙেচুরে যায় অ্যাম্বুল্যান্সটিও। তারপর থেকে নিশ্চয় যান প্রকল্পের একটি মাত্র অ্যাম্বুল্যান্সই গোটা কোলাঘাট ব্লকে কাজ করছে। করোনার ভয়ে অধিকাংশ অ্যাম্বুল্যান্স চালকই রোগী নিয়ে যেতে রাজি নন। কোলাঘাট ব্লকের বিডিও মদন মণ্ডল বলেন, ‘‘যে স্বেছাসেবী সংস্থা অ্যাম্বুল্যান্সটি দিয়েছে তাদের ধন্যবাদ। আমরা চালক পাঠিয়ে ওই অ্যাম্বুল্যান্সটি নিয়ে এসেছি। সেটি ঠিকঠাক থাকলে ব্লকের স্বাস্থ্য পরিষেবায় লাগানো হবে। পাশাপাশি আমরা আরেকটি অ্যাম্বুল্যান্সেরও ব্যবস্থা করেছি। সেটি দু’তিন দিনের মধ্যেই ব্লকে কাজ শুরু করবে।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন
আরও খবর

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন