নিজের বাড়ির সামনেই এক যুবকের অশালীন আচরণের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন তমলুকের উপপুরপ্রধান বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে তমলুক রাজবাড়ির চত্বরে। খবর পেয়েই তমলুক থানার পুলিশ গিয়ে অভিযুক্ত যুবককে আটক করে। পুলিশ জানিয়েছে ধৃতের বাড়ি তমলুক থানার সোনামুই গ্রামে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তমলুকের রাজপরিবারের সদস্য তথা উপপুরপ্রধান দীপেন্দ্রনারায়ণ রায় এদিন সন্ধ্যায় রাজময়দানে আয়োজিত দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ছিলেন। সেই সময় রাজবাড়ি চত্বরে এক যুবক ও যুবতীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন দীপেন্দ্রনারায়ণে স্ত্রী। তিনি তাঁদের দুজনকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। এরপরেই ওই যুবক দীপেন্দ্রনারায়ণের স্ত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ। ফোনে তা জানালে দীপেন্দ্রনারায়ণ সেখানে পৌঁছে যান। অভিযোগ, ওই তাঁকেও গালিগালাজ করলে তিনি প্রতিবাদ করেন। এতে যুবকটি তাঁকে ধাক্কা দেয়। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসেন। খবর পেয়ে চলে আসে তমলুক থানার পুলিশ। সব শুনে পুলিশ ওই যুবককে আটক করে ও তরুণীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে যুবকের পরিবারের লোকজন এসে উপ পুরপ্রধানের কাছে তার আচরণের জন্য ভুল স্বীকার করেন। উপ পুরপধানও ওই যুবকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ না করায় পুলিশ তাকে সতর্ক করে ছেড়ে দেয়।

দীপেন্দ্রনারায়ণ বলেন, ‘‘বাড়ির  সামনে ওই যুবক আমাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করায় প্রতিবাদ করেছিলাম। সেই যুবকটি আমাকে আক্রমণ করেছিল। তবে যুবকের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই আইনি ভাবে অভিযোগ করিনি।’’

বাসিন্দাদের অভিযোগ, তমলুক থানার অদূরে ওই রাজবাড়ি চত্বরে সন্ধ্যে হলেই যুবক-যুবতীরা চলে আসে। অনেকে নেশা করতে ওই এলাকা বেছে নেয়। এতে রাজবাড়ির লোকজনরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, উপপুপ্রধানকে হেনস্থার অভিযোগে এক যুবককে আটক করা হয়েছিল। তবে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। ওই যুবককে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রাজবাড়ির চত্বরে পুলিশের টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।