গত কয়েক বছর ধরে বস্তুত তিনিই ছিলেন মেলায় ‘সর্বেসর্বা’। কিন্তু সেই ‘মৌরসীপাট্টা’ এ বার আর থাকল না। ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে দলের মধ্যে থেকেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তা এতটাই দলের জেলা নেতৃত্বকে অস্বস্তিতে ফেলেছে যে সম্প্রতি পাঁশকুড়ার তৃণমূল নেতা কুরবার শা খুনের ঘটনায় এক প্রতিবাদ সভায় দলের জেলা সভাপতির সঙ্গে তাঁর দূরত্বও নজর এড়ায়নি অনেকের। তা ছাড়া তৃণমূলের একাংশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মেলার অন্যতম আয়োজক হিসাবে তিনি গত বছরের খরচের হিসাব দেননি। এই অবস্থায় এ বার কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র উপনগরীর মাঠে বসা কেটিপিপি মেলা ও প্রদর্শনীর আয়োজনের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল শহিদ মাতঙ্গিনী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দিবাকর জানাকে। পরিবর্তে মেলার আয়োজনে থাকছেন কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষই।

তৃণমূলের অন্দরে খবর, দিবাকরের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ ভালভাবে নেয়নি দল। প্রতি বছর ৪ জানুয়ারি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র উপনগরীর মাঠে এই মেলা ও প্রদর্শনী বসে। ২০২০ সালে এই মেলা ৩৬ বছরে পা দেবে। সাধারণত শাসক দলের হাতেই থাকেই মেলার রাশ। ২০১৩  সালে মেলা পরিচালনায় গঠিত হয় সমন্বয় কমিটি। কোলাঘাট ব্লক, শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লক  ও কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র রিক্রিয়েশন ক্লাব ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমস্ত সংগঠন নিয়ে গঠিত হয়েছিল ওই সমন্বয় কমিটি। কমিটির যুগ্ম সভাপতি হিসেবে ছিলেন তৃণমূল নেতা দিবাকর জানা। বিগত বছরগুলিতে মেলা আয়োজনের মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন তিনি। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সোচ্চার হন শহিদ মাতঙ্গিনী পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ জয়দেব বর্মন। তার পর থেকে দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে দিবাকরের। মাইশোরায় নিহত তৃণমূল নেতা কুরবান শা’র খুনের প্রতিবাদ সভায় তৃণমূলের জেলা সভাপতি শিশির অধিকারীর সঙ্গে হাত মেলাতে গেলে শিশিরবাবুকে হাত সরিয়ে নিতেও দেখা যায়। কুরবান খুন হওয়ার পর দিবাকর  দলের কাছে নিরাপত্তারক্ষীও চেয়েছিলেন বলে খবর তৃণমূল সূত্রে খবর। কিন্তু দলের তরফে তা নাকচ করা হয়। এমনকী শিশিরবাবু পরোক্ষভাবে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। এই অবস্থায় দিবাকরকে মেলার আয়োজনে রাখলে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। তাই দলের ওপর মহলের নির্দেশেই সুকৌশলে মেলার আয়োজক কমিটি থেকে দিবাকরকে সরানো হলে মত তৃণমূলের একাংশের।

যদিও এই বিষয়ে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তীর দাবি, ‘‘আগের সমন্বয় কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে তাই এবার আমরা নিজেরাই মেলার আয়োজক হিসেবে থাকছি।’’

এই বিষয়ে দিবাকর জানাকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তবে শান্তিপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তথা আগের মেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সেলিম আলির দাবি, ‘‘আমরা গত বছরের হিসাব জমা দিয়েছি। তাই হিসাব জমা না দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। আর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ নিজেরা মেলার দায়িত্ব নিলে আমাদের কী বলার আছে!’’