স্ত্রীর গলা কেটে হত্যার অভিযোগে সম্প্রতি খেজুরি থানার পুলিশ অপরেশ দাস নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছিল।  খেজুরির কামারদা এলাকায় ঘটা ওই ঘটনায় পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল, পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিল অপরেশ। তার জেরেই খুন হতে হয়েছিল তার স্ত্রী মৌমিতা মাইতি দাসকে। ওই ঘটনায় এবার পুলিশ গ্রেফতার করল অপরেশের এক ‘প্রেমিকা’কে। এ দিকে ওই ঘটনায় উঠে এসেছে ‘সুপারি কিলার’ নিয়োগের মতো আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। 

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত গৌরী মণ্ডল খেজুরি থানার জাহানাবাদের  বাসিন্দা। অপরেশের সঙ্গে গৌরির দীর্ঘদিন থেকেই সম্পর্ক ছিল বলে পুলিশের দাবি। দু’জনের ভুল বোঝাবুঝির জেরে ওই সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছিল। সেই ‘অভিমানে’ অপরেশ মৌমিতাকে বিয়ে করেছিল। কিন্তু বিয়ের পরে গৌরীর সঙ্গে অপরেশের ফের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। ওই সম্পর্কের জন্য  স্ত্রী মৌমিতাকে খুনের পরিকল্পনা করে  অপরেশ ও তার প্রেমিকা গৌরী এবং আর এক ধৃত সুমন মান্না।

পুলিশ জানিয়েছে, মৌমিতাকে খুনের জন্য কয়েক হাজার টাকা দিয়ে  অপরেশ ‘সুপারি কিলার’ও নিয়োগ  করেছিল। সেই মতো দু’জন ভাড়াটে খুনি টাকাও নেয়। পরে তারা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। এরপর কয়েক মাস আগে মৌমিতাকে খুনের জন্য অপরেশ লাইলন দড়ি নিয়ে কিনেছিল। কিন্তু সে বারও তার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায়। সম্প্রতি নন্দীগ্রামের একটি মেলা থেকে ছুরি কিনে আনে অপরেশ। সেই ছুরি বন্ধু সুমনের সেলুন দোকানে রেখে আসে।

পুলিশ আরও  জানিয়েছে, মৌমিতাকে খুনের আগে ফোনে ‘প্রেমিকা’ গৌরীর সঙ্গে অপরেশ একাধিকবার কথা বলে এবং মেসেজ পাঠায়। গলা কেটে মৌমিতাকে খুনের পরেও সে ‘প্রেমিকা’কে  মেসেজ  পাঠায় বলে দাবি। শনিবার পুলিশ অপরেশ, সুমন এবং অপরেশের বাবা তরুণ দাসকে কাঁথি আদালত থেকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে নিয়েছিল। সেই সময় অপরেশকে  জেরা করে গৌরীর ব্যাপারটি জানতে পারে তারা এবং রবিবার রাতে  গৌরীকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার গৌরীকে কাঁথি আদালতে তোলা হয়।  বিচারক তার জামিন নাকচ করে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।