হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। মৃতের নাম রফিক খান (৫২)। বাড়ি গড়বেতার খুদিয়াশোল গ্রামে। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, এনআরসি আতঙ্কেই অসুস্থ হয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন রফিক। তার ফলেই এই মৃত্যু। যদিও এ ব্যাপারে শুক্রবার রাত পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ হয়নি।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গড়বেতা ১ ব্লক অফিসে রেশন কার্ডে সংশোধনী সংক্রান্ত কাজের জন্য বৃহস্পতিবার সকালেই লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন রফিক। দুপুর সাড়ে ১২ টা নাগাদ লাইনেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয়েরা গড়বেতা গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করান। রাতেই মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করানো হয়। এ দিন সকালে সেখানেই মৃত্যু হয় রফিকের। মৃতের বড় ছেলে শাহজাহান খানের অভিযোগ, ‘‘চারদিকে এনআরসি নিয়ে যা চলছে তা ভেবে বাবা কয়েকদিন ধরেই অস্থির হয়ে পড়েছিলেন। সেই থেকেই অসুস্থ হয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পরে মৃত্যুও হয়।’’ পরিবার সূত্রের খবর, রফিকের ৪ ছেলে, ১ মেয়ে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। সব ছেলেই কাজের সূত্রে বাইরে থাকেন। বড় ছেলে শাহজাহান মেদিনীপুর শহরে এমব্রয়ডারির কাজ করেন। বাড়িতে স্ত্রী ফাইজা বিবিকে নিয়ে একাই থাকতেন রফিক।

গড়বেতা ১ ব্লকের যুগ্ম বিডিও বিশ্বনাথ ধীবর বলেন, ‘‘ব্লক অফিসে মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কিছু জানানো হয়নি।’’ কেন অভিযোগ জানালেন না? শাহজাহানের মন্তব্য, ‘‘সব মিটে যাক। ভাইদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’’  গড়বেতা ১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি তথা তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সেবাব্রত ঘোষ বলেন, ‘‘এনআরসি আতঙ্ক এতটাই চেপে বসেছে যে, মানুষ কাজকর্ম ছেড়ে রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে  ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। এতেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। মৃত্যুও হল।’’ সেবাব্রত-সহ তৃণমূল নেতৃত্ব এদিন বিকেলে রফিক খানের শেষকৃত্যে যোগ দেন। বিজেপির গড়বেতা পশ্চিম মণ্ডলের সভাপতি সনৎ সিংহ বলেন, ‘‘সত্যিই দুঃখজনক। মৃতের পরিবারকে সমবেদনা জানাই।’’