কটানা বৃষ্টিতে জল বেড়ে যাওয়ায় ফুঁসছে শিলাবতী নদী। গোয়ালতোড়ের গ্রামে নদী পারাপার হতে গিয়ে তলিয়ে গেলেন অশীতিপর এক বৃদ্ধ। জলের তোড়ে গড়বেতায় তোড়ে ভেসে গেল বাঁশের সাঁকোও।

গোয়ালতোড় থানার নেপুরাতে মঙ্গলবার শিলাবতী নদী পেরোতে গিয়ে তলিয়ে যান বছর তিরাশির বিশ্বনাথ ঘটক। তাঁর বাড়ি স্থানীয় মায়তার বনপুর গ্রামে। বিশ্বনাথবাবুর নাতি তাপু ঘটকের দাবি, ‘‘দাদু শিলাবতীর নেপুরার ঘাটে নদী পেরিয়ে হেঁটে যজমানদের বাড়ি যাচ্ছিলেন। নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় দাদু ডুবে যান। জল থেকে আর উঠতে পারেননি। আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করছি।’’ তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে গোয়ালতোড় থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে। তাপুর কথায়, ‘‘দাদু মায়তার শ্রীকৃষ্ণরায়জিউ মন্দিরের এক সময় সেবায়েত ছিলেন। এখন তিনি প্রায়ই যজমানদের বাড়িতে বাড়িতে ফুল, বেল ও তুলসিপাতা দিয়ে আসতেন। কখনও পুজোও করতেন। মঙ্গলবার সকালে যজমানদের বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যেই বেরিয়ে ছিলেন। রাস্তার মাঝেই এই বিপত্তি।’’

শিলাবতী নদীর নেপুরার ঘাট হয়ে গড়বেতা-১ ব্লকের আমকোপা ও বেনাচাপড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে যাতায়াত করেন বহু মানুষ। সেতু বা সাঁকো না থাকায় সারাবছর নদীর জল পেরিয়েই যাতায়াত করেন এই দুই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারা। কয়েকদিনের প্রবল বৃষ্টিতে শিলাবতীতে জল বাড়তে থাকায় নেপুরার ঘাটে পারাপারে অসুবিধায় পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। বুধবার দিনভর নদী ও নদী সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা তল্লাশি চালান। যদিও এ দিন বিকেল পর্যন্ত তাঁর
খোঁজ মেলেনি।

অন্য দিকে, শিলাবতী নদীর জল বাড়ায় মঙ্গলবার ভেসে গিয়েছে গড়বেতার শ্মশানকালী ঘাটের বাঁশের সাঁকো। সাঁকো ভেসে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন আগরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারা। সম্প্রতি ওই জায়গায় একটি স্থায়ী কাঠের সেতু তৈরির পরিকল্পনা করেছে গড়বেতা-১ পঞ্চায়েত সমিতি। কাজ শুরুর আগেই সাঁকো ভেসে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন এলাকাবাসী।