কন্যাশ্রী দিবসের অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা মানলেন, নানা আকর্ষণীয় প্রকল্প চালু করেও এখনও স্কুলছুট পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি।
 
বুধবার মেদিনীপুর শহরের প্রদ্যোৎ স্মৃতি সদনে জেলার মূল অনুষ্ঠানে ছিলেন জেলাশাসক রশ্মি কমল, জেলা পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার, জেলা সভাধিপতি উত্তরা সিংহ, জেলা সহ- সভাধিপতি অজিত মাইতি প্রমুখ। ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক সৌর মণ্ডল, মহকুমাশাসক (সদর) দীননারায়ণ ঘোষ-সহ জেলা প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকেরা। জেলায় স্কুলছুটের বিষয়টি দেখেন অতিরিক্ত জেলাশাসক প্রতিমা দাস। এ দিন তিনি বলেন,  ‘‘সমীক্ষা হয়েছে। জেলায় এখন ৫ হাজারেরও বেশি স্কুলছুট রয়েছে। ভবিষ্যতে স্কুলছুটের সংখ্যা কমাতেই হবে।’’ 
 
এখন স্কুলছুটদের স্কুলে ফিরিয়ে আনতে সমগ্র শিক্ষা অভিযানের উদ্যোগে প্রতি বছর বিশেষ অভিযান হয়। গত কয়েক বছরে স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি মিলছে বেশ কিছু সুযোগ। এরমধ্যে কন্যাশ্রী, সবুজসাথীর মতো প্রকল্প রয়েছে। কন্যাশ্রী প্রকল্পে নগদ টাকা পাচ্ছে পড়ুয়ারা। সবুজসাথী প্রকল্পে মিলছে সাইকেল। সবমিলিয়ে স্কুলে যাওয়া এখন পড়ুয়াদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। তারপরেও স্কুলছুট বাড়ায় উদ্বিগ্ন জেলা প্রশাসন। এ দিন প্রতিমাদেবীকে বলতে শোনা যায়, ‘‘সরকার এত সুবিধা দিচ্ছেন। তাও স্কুলছুট হচ্ছে। এটা গভীর ব্যথার ব্যাপার। শূন্য করতে না পারি, কিন্তু স্কুলছুট কমাতেই হবে।’’  উৎকর্ষ বাংলার অধীনে ইচ্ছুক কন্যাশ্রীর মেয়েদের বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলেও এ দিন মঞ্চ থেকে জানানো হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার ইভটিজিংয়ের শিকার হলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দেন।  
এ দিন দাঁতন ২ ব্লক অফিস চত্বরের অনুষ্ঠানেও কৃতী পড়ুয়াদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কেশিয়াড়ি ব্লকের অনুষ্ঠান হয় রবীন্দ্র ভবনে। ছিল নাটক, নাচ, গান। নারায়ণগড় ব্লকের অনুষ্ঠানে স্থানীয় মেয়েদের ফুটবল ও হকি দলগুলিকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। চন্দ্রকোনা রোডের বিদ্যাসাগর মঞ্চে গড়বেতা ৩ ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে এ দিন মৌলিক রচনা লেখার জন্য কন্যাশ্রীদের পুরস্কৃত করা হয়। গড়বেতা ১ ব্লকের অনুষ্ঠান হয় বিনোদ ধাড়া মঞ্চে। গড়বেতা ২ ব্লকের অনুষ্ঠান হয় গোয়ালতোড়ে। কেশপুর, শালবনি, মেদিনীপুর সদর ব্লকেও কন্যাশ্রী দিবস পালন হয়েছে। এ দিন ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠান হল ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসনের সিদো-কানহো সভাঘরে। পাঁচ কৃতী কন্যাশ্রীকে সম্মানিত করা হয়।