শুক্রবার কেশিয়াড়িতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সবলা মেলার মঞ্চ থেকে বাস উদ্বোধন করলেন পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। 

এ দিন বিজেপির নাম না করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোক একদিন হঠাৎ করে বন্‌ধ ডেকে দেয়। সব বাস বন্ধ। সেদিন সরকারি কর্মচারী, শিক্ষকরা কষ্ট পেয়েছেন। আমি জানতে পেরে মেদিনীপুর ডিপো থেকে  ৬ খানা বাস চালিয়ে দিয়েছিলাম। তাঁরা খুশি হয়ে আমাকে বলেছিলেন এটা প্রতিদিন হলে খুশি হতাম। আমি আজকে ২টি বাস এখান থেকে চালু করলাম।’’ একই সঙ্গে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘ভবিষ্যতে এটা যদি আপনারা বেশি ব্যবহার করেন, খরচ এবং তেলের পয়সাটা অন্তত উঠে যায়।’’ হলদিয়া-কেশিয়াড়ি ও কেশিয়াড়ি-মেদিনীপুর রুটের ওই দু’টি বাস এ দিন থেকেই চলাচল শুরু করে। সবলা মেলার মঞ্চ হলেও এ দিন কেশিয়াড়িতে বাসস্ট্যান্ড তৈরি করার প্রতিশ্রুতিও দিয়ে যান শুভেন্দু। জানান, সেই বাসস্ট্যান্ড তৈরির জন্য ১ কোটি টাকা খরচ হবে। বাজার এলাকায় লাগানো হবে হাইমাস্ট আলো। 

এ দিন অনুষ্ঠানের শুরুতে ভিড় হয়েছিল ভালই। তবে মাঝপথে ভিড় হালকা হতে শুরু করে। এ দিনের অতিথি তালিকায় সাংসদ-অভিনেতা দেব, সন্ধ্যা রায়, মন্ত্রী সাধন পান্ডের নাম থাকলেও তাঁরা আসেননি।   ছিলেন মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র, সাংসদ মানস ভুঁইয়া, জেলাশাসক পি মোহন গাঁধী, জেলা পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া, জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তরা সিংহ হাজরা, সহ সভাধিপতি অজিত মাইতি।

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে কেশিয়াড়ি পঞ্চায়েত সমিতিতে ১৩টি আসন পেয়েছে বিজেপি। ১২টি পায় তৃণমূল। তবে এই পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড এখনও গঠিত হয়নি। এর আগে দু’বার বোর্ড গঠনের বিজ্ঞপ্তি দিয়েও নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে পরে সেটি প্রত্যাহার করে নেয় প্রশাসন। বিজেপি দাবি করে আসছে, তাদের জনপ্রতিনিধিদের ভাঙানোর চেষ্টা করছে তৃণমূল। শাসক দল অবশ্য অভিযোগ মানেনি। এ দিন জেলা সবলা মেলার মঞ্চেও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি। বিজেপির কেশিয়াড়ি দক্ষিণ মণ্ডলের সভাপতি সনাতন দোলাই বলেন, ‘‘সরকারি নাকি দলীয় কার্যক্রম তা আমরা বুঝতে পারিনি। আমাদের কোনও জয়ী সদস্যকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।’’ কেশিয়াড়ি ব্লক তৃণমূলের সভাপতি পবিত্র শীটের অবশ্য দাবি, ‘‘জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই মেলা হচ্ছে। এ নিয়ে কিছু বলব না।’’

এ দিন রাতে মেলার তাল কাটে। ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় গোটা চত্বর। বেশ কিছু চেয়ারও ভাঙে।