পুরসভার ভোটে কাজের জন্য এ বার আর নেওয়া হচ্ছে না শিক্ষকদের। ভোট কর্মী হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের কর্মীদের। পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক ( ট্রেজারি) প্রশান্ত অধিকারী বলেন, ‘‘পুরসভা এলাকায় ভোটগ্রহণের জন্য সীমিত সংখ্যক ভোট কর্মী প্রয়োজন। তাই স্কুলের পড়াশোনার যাতে কোন অসুবিধা না হয় সে জন্য শিক্ষকদের পরিবর্তে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতর থেকেই ওই ভোট কর্মীদের নেওয়ায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল।’’

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ২৫ এপ্রিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক, কাঁথি ও এগরা এই তিন পুরসভার মোট ১৩৫ টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের জন্য প্রায় ৮০০ জন ভোট কর্মী নেওয়া হয়েছে। প্রতি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের জন্য চারজন করে ভোট কর্মী থাকছে  এরমধ্যে একজন প্রিসাইডিং অফিসার, বাকি তিনজন পোলিং পার্সন। এছাড়াও মোট ভোট কর্মীর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ভোট কর্মী সংরক্ষিত রাখা হচ্ছে। জেলা নির্বাচন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, তমলুক পুরসভার ২০ টি ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৫৩,  কাঁথি পুরসভার ২১ টি ওয়ার্ডে ভোট গ্রহণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৫৫ ও এগরা পুরসভার ১৪ টি ওয়ার্ডে কেন্দ্রের সংখ্যা ২৭। তিন পুরসভা মিলিয়ে ভোটগ্রহন কেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৫। নিরাপত্তার নিরিখে বিভিন্ন ভোটগ্রহণ কেন্দ্রগুলিকে সাধারণ, সংবেদনশীল ও অতি সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশবাহিনী মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি ভোট গ্রহণকেন্দ্রে ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

জেলা নির্বাচন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১২ এপ্রিল জেলার তিন পুরসভার ভোট কর্মীদের প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ হয়েছে। আগামী ১৯ এপ্রিল চূড়ান্ত প্রশিক্ষণ হবে। ভোট গ্রহণের জন্য ইলেকট্রনিক ভোট যন্ত্রে প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক চিহ্ন সম্বলিত বিভিন্ন ওয়ার্ডের জন্য নির্দিষ্ট ব্যালট বাক্স নিয়ে শুক্রবার তমলুকে জেলা প্রশাসনিক ভবনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী বা তাঁদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পরীক্ষা মূলকভাবে ভোটগ্রহণ দেখানোর পর তা সিল করা হয়। এ দিন ওই ব্যালট নিয়ে পরীক্ষামূলক ভোটগ্রহণ শুরু করার সময় বিজেপি’র পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় ব্যালট বাক্সে তৃণমূলের প্রতীক চিহ্নটি মোটা হরফের রেখা দিয়ে আঁকা রয়েছে। যদিও জেলা নির্বাচন দফতরের আধিকারিক জানান রাজ্য নির্বাচন দফতর থেকে যেভাবে প্রতীক পাঠানো হয়েছে সেই অনুযায়ী এখানে প্রার্থীদের প্রতীক রাখা হয়েছে। আলাদাভাবে কোন রাজনৈতিক দলের প্রতীককে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার প্রশ্ন নেই।