• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ট্রেনে চুরি, লজ থেকে ধৃত দুষ্কৃতী

Train
প্রতীকী ছবি।

ট্রেন থেকে সোমবার রাতে খোওয়া গিয়েছিল দিগন্ত সিংহের ব্যাগ। ওই ব্যাগেই ছিল পাসপোর্ট, আধার, প্যান, ডেবিট, ক্রেডিট কার্ড, এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি পাস সবই। ব্যাঙ্কে খোঁজ নিয়ে দিগন্তবাবু জানতে পারেন, তাঁর ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে আটবার টাকা তোলা হয়েছে। মেদিনীপুরের একটি লজেও পিওএস মেশিনেও সোয়াইপ করা হয়েছে কার্ড। হাওড়া জিআরপিতে ঘটনার কথা জানান তিনি। বিষয়টি জানতে পেরে মেদিনীপুরের ওই লজে হানা দেয় রেল পুলিশের দল। মঙ্গলবার লজ থেকে রামনরেশ পাণ্ডে ও মনতোষ পাণ্ডে নামে দুই দুষ্কৃতীকে বমাল গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

  ধৃত দুই দুষ্কৃতীরই বাড়ি ভিন্‌ রাজ্যে। রেল পুলিশের অনুমান, ধৃতেরা দুষ্টচক্রের সঙ্গে জড়িত। এই চক্রে আরও কেউ থাকতে পারে। খোওয়া যাওয়া কাগজপত্রের বেশির ভাগই উদ্ধার হয়েছে ধৃতদের কাছ থেকে। রেল পুলিশের এক কর্তা বলেন, “ওই যাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।” চুরির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুষ্কৃতীরা গ্রেফতার হওয়ায় রেল পুলিশের তৎপরতার কথা মানছেন দিগন্তবাবু। তাঁর কথায়, “হাওড়ায় পৌঁছে জিআরপি-তে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। জিআরপি তৎপরতার সঙ্গে তদন্ত করেছে। মেদিনীপুর থেকে দুষ্কৃতীদের হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে।”

ঘটনাটি ঠিক কী? দিগন্তবাবু পেশায় এয়ারক্র্যাফ্ট ইঞ্জিনিয়ার। আবুধাবিতে কর্মরত। তাঁর বাড়ি ভিলাইতে। ছুটি পেয়ে বাড়িতে এসেছিলেন। ফের আবুধাবি ফেরার কথা ছিল তাঁর। স্ত্রী, ছেলেমেয়েকে নিয়ে সপরিবার ফেরার কথা ছিল। বুধবার রাতের বিমান ধরার কথা ছিল। তার আগেই এই ঘটনা। ঘটনার জেরে দিগন্তবাবুর আবুধাবি ফেরা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। তাঁর কথায়, “ওই ব্যাগে অনেক জরুরি কাগজপত্র ছিল। কবে ফিরতে পারব জানি না।”

হাওড়া পৌঁছনোর জন্য গত সোমবার দুপুরে ভিলাই থেকে মুম্বই- হাওড়া মেল ধরেন দিগন্তবাবু। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী আত্রেয়ী, ছেলে দীপ্তাংশু, মেয়ে নবনীপা। ট্রেনটি মঙ্গলবার ভোরে খড়্গপুরে পৌঁছয়। সকালে ঘুম ভাঙার পরে দিগন্তবাবু দেখেন তাঁর স্ত্রীর পাশে যে ব্যাগটি ছিল সেটি নেই। ট্রেন তখন খড়্গপুর ছেড়ে হাওড়ার দিকে ছুটছে। ওই ব্যাগে পাসপোর্ট, আধার, প্যান, ডেবিট, ক্রেডিট কার্ড, এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি পাস- সবই ছিল। নগদ টাকাও ছিল। ট্রেনের বগি তন্নতন্ন করে খোঁজা হয়। কোথাও ব্যাগটির খোঁজ মেলেনি।

মঙ্গলবার সকালে হাওড়া পৌঁছে জিআরপি-তে যান দিগন্তবাবু। অভিযোগ জানান। ব্যাগে দু’টি ব্যাঙ্কের এটিএম কার্ড ছিল। পিন নম্বর লেখা একটি কাগজও ব্যাগের মধ্যে ছিল। সময় নষ্ট না করে দিগন্তবাবু একটি ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খোওয়া যাওয়া এটিএম কার্ড থেকে আর যাতে কোনও লেনদেন না হয় সেই ব্যবস্থা করার আর্জি জানান। এও জানতে চান, ওই দিন সকালের দিকে কোনও লেনদেন হয়েছে কি না। ব্যাঙ্ক থেকে জানানো হয়, লেনদেন হয়েছে। খুব কম সময়ের মধ্যে ৮ বার টাকা তোলা হয়েছে। প্রতি বার ১০ হাজার করে। অর্থাৎ, মোট ৮০ হাজার টাকা তোলা হয়েছে। মেদিনীপুরের এক লজের সোয়াইপ মেশিনেও কার্ডটি ব্যবহৃত হয়েছে।

সোয়াইপ মেশিনে কার্ড ব্যবহৃত হওয়ার কথা জিআরপি-তে জানান দিগন্তবাবু। এরপরই তদন্তে গতি আসে। ঠিকানা খুঁজে মেদিনীপুরের ওই লজে হানা দেয় রেল পুলিশের একটি দল। বমাল ধরা পড়ে দুই দুষ্কৃতী।

বুধবার ধৃতদের মেদিনীপুর সিজেএম আদালতে হাজির করা হলে  পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ হয়।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন