অষ্টম শ্রেণির এক নাবালিকাকে যৌন হেনস্থা করার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন নবদ্বীপের এক মন্দিরের প্রধান মহারাজ। ঘটনাটি ঘটেছে নবদ্বীপ প্রাচীন মায়াপুরের জন্মস্থান পাড়ায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, প্রাচীন মায়াপুরের নিতাই-গৌর মন্দিরে কীর্তন গাইতে যেত ওই নাবালিকা। তার পরিবারের অভিযোগ, আশ্রমের মহারাজ দীনকৃষ্ণ দাস কয়েক দিন আগে মেয়েটিকে যৌন হেনস্থা করেন। মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি জানতে পারেন পরিবারের লোক জন। এর পর সোমবার সন্ধ্যায় নবদ্বীপ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই নাবালিকার মা। রাতেই গ্রেফতারর করা হয় মহারাজকে। মঙ্গলবার দুপুরে অভিযুক্ত ওই বাবাজিকে কৃষ্ণনগরের বিশেষ পকসো আদালতে তোলা হয়। বিচারক দীনকৃষ্ণ দাসের চোদ্দো দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। 

যদিও মহারাজ এই অভিযোগের প্রসঙ্গে মুখ খুলতে চাননি। তবে এলাকার মানুষের একাংশ তাঁর পাশে রয়েছেন। তাঁদের দাবি, মহারাজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা। তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। তাঁরা ক্ষোভে ফুঁসছেন অভিযোগকারী মহিলা এবং তার মেয়ের বিরুদ্ধে। 

নবদ্বীপ পুরসভার ছয় নম্বর ওয়ার্ডের জন্মস্থান পাড়ায় ওই মন্দিরের পাশেই বাড়ি ওই নাবালিকার। বছর পনেরো আগে তারা এসে সেখানে বসবাস শুরু করেন। প্রতিবেশিদের কয়েক জনের পাল্টা অভিযোগ, ওই মহিলা বেআইনি ভাবে বাড়ি করছিলেন। মন্দিরের প্রধান হিসাবে মহারাজ বাধা দেওয়ায় এই ভাবে তার প্রতিশোধ নিয়েছেন অভিযোগকারিণী। তাঁরা আরও জানান, নিজের স্বামীর বিরুদ্ধেও কয়েক বছর আগে মেয়ের শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে তাঁকে বাড়ি ছাড়া করেছিলেন ওই মহিলা।

মঙ্গলবার সকালে মহারাজকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবরে মন্দিরের সামনে ভিড় জমান শতাধিক মানুষ। ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। এলাকার বাসিন্দা  মিনতি মণ্ডল, অপর্ণা বিশ্বাস, সুমিত্রা দাসেরা এক বাক্যে মহারাজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা বলে জানান। যাঁর বিরুদ্ধে এত কথা সেই অভিযোগকারিণী ও তাঁর নাবালিকা মেয়ে ঘটনার পর বেপাত্তা।