আন্দোলনকারীদের পক্ষে জুনিয়র ডাক্তার হিসেবে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে ডাক পেয়েছিলেন। আর সেখানে গিয়ে নিজের কলেজের সমস্যার কথা তুলে ধরলেন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালের জুনিয়র ডাক্তার তুহিন খান। তিনি ওই বৈঠকে বলেন, ‘‘আমাদের মেডিক্যালে রোগীর চাপ খুব। কিন্তু পরিকাঠামোর অভাবের পাশাপাশি চিকিৎসক-অধ্যাপক কম রয়েছে।’’ তিনি পরিকাঠামোর পাশাপাশি চিকিৎসক-অধ্যাপক বাড়ানোর আবেদন জানান। একই সঙ্গে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মাঝেমধ্যে চিকিৎসক নিগ্রহ হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্তদের শাস্তি হয় না বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিকিৎসক নিগ্রহ আটকাতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান।

তুহিনের বক্তব্য শোনার পরে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও স্বাস্থ্য দফতরের প্রধান সচিবকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিষয়টিকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। এ ছাড়া বৈঠকের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বাস দূর্ঘটনার সময় (বালিরঘাট সেতুতে দুর্ঘটনা) বহরমপুরে গিয়েছিলাম। মেডিক্যাল কলেজ গিয়েছিলাম। সেখানকার কলেজের পরিকাঠামোগত দিকগুলি দেখুন।’’

মুখ্যমন্ত্রীকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কথা জানাতে পেরে খুশি তুহিন খান। হাওড়ার বাসিন্দা তুহিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন। তুহিন বলছেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে আলাদা ভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়ায় আমরা খুশি।’’    

এ দিন নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জুনিয়র ডাক্তারদের বৈঠকের দিকে তাকিয়ে ছিল গোটা রাজ্য। বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ধর্নায় বসে থাকা জুনিয়র ডাক্তাররাও মোবাইলে সেই বৈঠক মন দিয়ে দেখছিলেন। অবস্থান মঞ্চে থাকা জুনিয়র ডাক্তারদের চোখ ছিল মোবাইলের স্ক্রিনে। এ দিনের বৈঠকে খুশি হয়েছেন তাঁরাও। জুনিয়র ডাক্তার আব্দুল আজিজ বলেন, ‘‘আমরা অবস্থান মঞ্চে ছিলাম। টিভি দেখার সুযোগ ছিল না। তাই মুখ্যমন্ত্রীর পুরো বৈঠক মোবাইলে দেখেছি। এ দিনের বৈঠকে যা সিদ্ধান্ত হয়েছে তা দ্রুত কার্যকর হোক— এটাই আমরা চাই।’’

মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালের মনোরোগ বিভাগের প্রধান রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তারদের পক্ষে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে গিয়েছিলেন তুহিন খান। তিনি সব সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। মুখ্যমন্ত্রী ওই বৈঠকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালকে আলাদা ভাবে নজর দিতে বলায় আমরা খুশি।’’ এ দিন কলকাতা থেকে ফেরার পথে তুহিন ফোনে বলেন, ‘‘সমস্যা মিটে গিয়েছে। সোমবার রাত ১২টার পরেই আমরা কাজে যোগ দেব।’’