নিছকই মজায় পথ কুকুরের লেজে পটকা বেঁধে উল্লাসে মেতে ওঠেন যাঁরা, যাঁরা শুয়ে থাকা পথ কুকুরের পায়ের উপর দিয়ে সাইকেলের চাকা তুলে দিয়ে আনন্দ পান, তাঁদের এখন সাবধান হওয়ার সময় এসেছে।

এখন থেকে পথ কুকুরদের উপরে অত্যাচার দেখলেই পুলিশের ১০০ ডায়ালে ফোন করলে পদক্ষেপ করা হবে। মুর্শিদাবাদের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা বলছেন, ‘‘পথ কুকুরের উপরে অত্যাচার হলে ১০০ ডায়ালে ফোন করুন। পুলিশ পদক্ষেপ করবে।’’ কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে সরাসরি থানায় গিয়ে কুকুরদের উপরে অত্যাচার করার লিখিত অভিযোগ জমা দিতে গেলেও পুলিশ পদক্ষেপ করে না, সেখানে ১০০ ডায়ালে ফোন করলে পুলিশ পদক্ষেপ করবে? অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলছেন, ‘‘এ সব ক্ষেত্রে একশ্রেণির পুলিশেরও সচেতনতার অভাব রয়েছে। তবে আগের তুলনায় পুলিশের সচেতনতা বেড়েছে, মামলাও হচ্ছে পশু ক্লেশ নিবারণ আইনে।’’

কলকাতায় এনআরএস হাসপাতাল চত্বরে বেশ কয়েকটি কুকুর ছানাকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ সামনে আসার পরে গত দু'দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় থেকে পশুপ্রেমী বিভিন্ন সংস্থা প্রতিবাদে সরব হয়েছে। কলকাতার ওই ঘটনার পরেই বহরমপুর পুর-কর্তৃপক্ষ বহরমপুরের ২৮টি ওয়ার্ডে ফেস্টুন-হোর্ডিং-ব্যানার লাগানোর পাশাপাশি বাড়ি ঘুরে সচেতন করার কাজে পুরকর্মীদের ব্যবহার করা হবে বলে জানান পুরসভার প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। তিনি বলছেন, ‘‘পশু ক্লেশ নিবারণ আইন সম্বন্ধে মানুষ সচেতন নন। ফলে নিরীহ পথ কুকুরদের প্রতি অকারণ নিপীড়ন করার প্রবণতা রয়েছে এক শ্রেণির মানুষের। তাই হোর্ডিং-ব্যানার টাঙিয়ে পথ কুকুরদের মারধর করবেন না বলে আবেদন করা হবে পুরসভার তরফে।’’

বহরমপুর পুরসভা ২৪ ঘন্টার একটা হেল্প লাইন পরিষেবাও চালু করছে, ৯৭৩৩১৩৩৮৩৮ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানালে পদক্ষেপ করবে পুরসভা। নাড়ুগোপাল জানান,  এ ছাড়াও ০৩৪৮২-২৫০০১২ নম্বরেও ফোন করে অভিযোগ জানানো যাবে। পাগল কুকুর পাড়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে দেখতে পেলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে ওই দুটো নম্বরে ফোন করে জানাতেও অনুরোধ করা হবে।

পথ কুকুরদের উপরে নিপীড়ন রুখতে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে পঞ্চায়েতকে কাজে লাগানোর ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে বহরমপুর মহকুমা প্রশাসন। বহরমপুরের মহকুমাশাসক দীপাঞ্জন মুখোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘কলকাতার মতো ঘটনা যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে প্রশাসনের তরফে বিভিন্ন ব্লকের পঞ্চায়েতগুলিতে শিবির করে সচেতন করা হবে এলাকার মানুষকে।’’